মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পরিচালিত এ অভিযানে রহমতপুর মাছ ঘাট ও উপকূলীয় এলাকা থেকে আনুমানিক ২০০ কেজি ইলিশ এবং ৬০ কেজি পোয়া মাছসহ মোট ২৬০ কেজি মাছ আটক করা হয়েছে। পরে আটক করা মাছগুলো সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেনের উপস্থিতিতে নিকটবর্তী বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা অংশ নেন।

সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (২৩ আশ্বিন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

এরই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপের রহমতপুর মাছ ঘাট ও উপকূলীয় এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ২০০ কেজি ইলিশ মাছ ও ৬০ কেজি পোয়া মাছ আটক করা হয়। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনের উপস্থিতিতে আটক করা মাছগুলো স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ইলিশ আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রাখা গেলে ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।