সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে সমূদয় অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন দূর্নীতি অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংবলিত জেলা প্রশাসক বরাবর আবদনের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করছেন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান।
তিনি পলমাটি গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
তদন্তকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করা এবং নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত বক্তব্যে গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বি হাজী আব্দুর নূর বলেন – আমাদের প্রাইমারি স্কুল থেকে গ্রামের সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।
সুলতান আহমদ বলেন –মাটি ভরাট করবে দূরের কথা মেম্বার সুজন কোন দিন বলেওনি যে আমাদের স্কুলের রাস্তায় ১ টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে।
জাকির হোসেন বলেন — স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলা চলের রাস্তা নির্মাণে সরকার টাকা বরাদ্ব দিয়েছে সমূদয় টাকাই আত্মসাৎ করেছেন মেম্বার সুজন মিয়া। আমরা গ্রামবাসী এটা জেনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে এম পি ও ডিসি সাবের কাছে আবেদন করেছি। আপনি আজকে সরজমিনে এসে দেখলেন এবং উপস্থিত শত মানুষের মুখে শুনলেন ১ টি টাকার মাটিও কাটেনি। এই লুটপাট ও দূর্নীতির বিচার চাই। তদন্ত কর্মকর্তা তখন উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান কেউ কি জানেন বা দেখেছেন পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে পলমাটি সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় কোন মাটি ভরাট বা কাটা হয়েছে? উপস্থিত জনতা সবাই বলেন এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি।
সুজন মেম্বার তার বক্তব্যে বলেন – পলমাটি প্রাইমারী স্কুল থেকে সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ নামে কোন প্রকল্প নেই, উপস্হিত সাংবাদিক,গ্রামবাসী ও তদন্ত কর্মকর্তা ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর সংবলিত প্রকল্পের নামের কাগজ প্রদর্শন করিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন এটা ২৮ শা মাছিমপুরের সুজাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সেখানে আমি বেকু দিয়ে মাটি কেটে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ছবি দিয়েছি তারা তা দেখে টাকার চেক দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জনাব শামছুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে ১ জন মাষ্টার ১জন ইমাম রাখা লাগে তাদের নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে সুজন মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার মনে নেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাছ থেকে জেনে নিয়েন।
গ্রামবাসীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুজন মেম্বারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের উদ্যোগে সরেজমিন তদন্ত শুরু হওয়ায় তারা ন্যায় বিচারের আশাবাদী।
তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান সরেজমিনে বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন ও স্থানীয়দের বক্তব্য গ্রহণ করেন। তদন্ত শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানান।