কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্রসৈকত এলাকায় এক যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হাসান নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাত প্রায় ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে সুগন্ধা সমুদ্রসৈকতের ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের পাশে এবং পরবর্তীতে কড়াই রেস্টুরেন্ট এলাকায় তাকে জিম্মি করা হয়। হাসান তিনজন টুকাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ভাড়া করে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ।
জিম্মি অবস্থায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পা কেটে ফেলার এবং হত্যার হুমকি দেন। বাসায় খবর পৌঁছানোর পর পরিবারকে মুক্তিপণ না দিলে হাত বা পা কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই সময় ভুক্তভোগীর মানিব্যাগ থেকে নগদ ১৭,৫০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।
পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৬০,০০০ টাকা, পরে ৫০,০০০ টাকা এবং সর্বশেষ ৩০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার টাকা দিতে অক্ষম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৮,০০০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এরপর হাসানের মায়ের অনুরোধে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মসজিদে নিয়ে শপথ করিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলতে এবং কোনো অভিযোগ না করতে চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর হিসাব অনুযায়ী, বিকাশ ও নগদ মিলিয়ে মোট ২৫,৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ করলে তার পরিবারের কেউ কক্সবাজারে এলে লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, হাসান এর আগেও এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। লাদেন, সাইফুল, মরিচ্যার বাবু এবং কায়সারসহ কয়েকজনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ আছে। এর মধ্যে লাদেন ও মরিচ্যার বাবুর কাছ থেকে ৩০,০০০ টাকা করে এবং কায়সারের কাছ থেকে ২৫,৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
হাসান কক্সবাজারের কালুর দোকান এলাকার হাজারি মেইচ খাবার হোটেল থেকে অপহরণ ও জিম্মি ব্যবসা পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী হাসানের সঙ্গে আগে থেকে পরিচিত ও বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকায় তাকে বিশ্বাস করে সুগন্ধা বীচে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে প্রশাষনের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগী কায়সার।