ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে বাসা থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকা থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
শুক্রবার রাজধানীর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে এই দুই নেতার ‘তিরঙ্গা মার্চ’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। দীপকেকে আটকের আগে তাঁর বাড়িতে একটি নোটিশ নিয়ে যান কনট প্লেসের স্টেশন হাউস অফিসার।
এতে বলা হয়, দীপকে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্য বিবৃতি ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছিল তাকে। পরেরদিন মুক্তি পাওয়ার পর নিজের পরিবারের কাছে ছুটে যান তিনি। এর আগের দিন তার দাদি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।
এনডিটিভি নেহা বোরাকে তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট ‘নেহা বোরা টিম’ সন্ধ্যা ৬টার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে নেহাকে আটকের চেষ্টা করতে দেখা যায় পুলিশকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, মান্ডি হাউস থেকে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ নেহাকে জোরপূর্বক আটকের চেষ্টা করে।
নেহাকে আটকের একটি ছবি প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবির বিক্ষোভ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নেহাকে আটক করেছে।
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিরঙ্গা মার্চ বা জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সংগঠনটি। জমায়েত ঠেকাতে সকালেই সমাবেশস্থল সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি)। এর আশপাশে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ২৫ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
দুপুরের পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি দল নোটিশ নিয়ে অভিজিত দীপকের বাসভবনে যায়। হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, নোটিশে পুলিশ মূলত জননিরাপত্তা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার কারণ দেখিয়ে কনট প্লেসের আশপাশে মিছিল, সমাবেশ করতে নিষেধ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিলেই কেবল নির্ধারিত স্থানে বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন করছে ককরোচ পার্টির তরুণ সমর্থকরা।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি ভোটার তালিকা থেকে কয়েক কোটি মানুষকে বাদ দিয়েছেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৭০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। নির্বাচন শেষ পরপরই আবার তাদের নাম যোগ করা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি।