আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী। দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথির অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশেষ পূজা।

হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্প, সুলক্ষণা ও অবিবাহিত কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের কথামতে, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায়। মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার মূল উদ্দেশ্য।

শাস্ত্রমতে, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম রয়েছে। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুজ্জিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দতে পীঠনায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।

কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত কন্যাকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। এরপর তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে দেবীজ্ঞানে তার পূজা করা হয়।

পূজার সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবীস্তোত্রে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।

কুমারী পূজার তাৎপর্য সম্পর্কে পুরোহিতরা বলেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট কাটিয়ে অগ্রসর হতে হলে নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। নারীর বিভিন্ন মর্যাদার মধ্যে মাতৃরূপকে সবচেয়ে মহিমাময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কুমারী পূজার মাধ্যমে মাতৃজাতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আদ্যাশক্তির প্রতি প্রণাম জানানো হয়।

দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে দশমীর মধ্য দিয়ে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে।

দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা রয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। পরে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।