দুই সন্তান নিয়ে অসহায় বিলকিস
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মানবিক সহায়তার আকুতি।
একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল ফুটবল ঘিরে, তাঁর পরিচয় ছিল মাঠের সঙ্গে। তরুণদের পায়ে ফুটবল তুলে দিয়ে যিনি স্বপ্ন দেখাতেন আগামীর, সেই ফুটবল কোচ স্বপন আজ নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া স্বপ্ন, স্মৃতি আর দায়িত্বের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন স্ত্রী বিলকিস। দুই সন্তানকে বুকে আগলে রেখে প্রতিদিন তাঁকে লড়তে হচ্ছে জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে।
স্বপনের মৃত্যুর পর যেন এক নিমেষেই বদলে গেছে পরিবারটির চেনা পৃথিবী। যে সংসারে একসময় ছিল সচ্ছলতার ছোঁয়া, সেখানে এখন প্রতিটি দিন কাটে হিসাব-নিকাশ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা—সবকিছুর মাঝেই বিলকিসকে ভাবতে হয়, কীভাবে চলবে আগামী দিনের সংসার।স্বামীর স্মৃতি বুকে, ছোট্ট দোকানেই বেঁচে থাকার লড়াই। স্বপ্ন ছিল নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার পথে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তাঁরই পরিবারকে প্রতিদিন টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
স্বামীর মৃত্যুর পর ভেঙে না পড়ে জীবনের হাল ধরেছেন বিলকিস। নিজ হাতে গড়ে তোলা ছোট্ট একটি দোকানই এখন তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন। দোকান থেকে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।
দিন শেষে দোকানের আয় হয়তো কিছুটা স্বস্তি দেয়, কিন্তু সেই আয়ে কি মেটে সংসারের সব চাহিদা? সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে পথ চললেও বাস্তবতার কঠিন দেয়ালে বারবার ধাক্কা খেতে হচ্ছে তাঁকে। বিলকিসের এই সংগ্রাম কেবল একজন বিধবা নারীর জীবনযুদ্ধ নয়; এটি দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ আগলে রাখার এক মায়ের নিরন্তর লড়াই। যে লড়াইয়ের প্রতিটি দিনে রয়েছে দায়িত্ব, ত্যাগ আর অজানা আগামী দিনের দুশ্চিন্তা। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন বিলকিস। ছোট্ট একটি দোকানের সামান্য আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে সন্তানদের ভরণপোষণ, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর। এ পরিস্থিতিতে মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্বপনের সাবেক সহকর্মী, ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিলকিস। তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সহৃদয় মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং পরিবারটির জন্য একটি স্থিতিশীল জীবিকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।