সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদ আহমেদের মরদেহ ১৩ দিন পর নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা চাচাইতারা স্কুল মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে আসায় পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে জানাজায় অংশ নেন এলাকার অসংখ্য মানুষ।
নিহত শাহেদ আহমেদ বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা মণ্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। ১৩ দিন পর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।
শুক্রবার বাদ জোহর তার মরদেহ নিজ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও শাহেদের আর কখনো ফিরে না আসার বাস্তবতা স্বজনদের জন্য হয়ে ওঠে অসহনীয়।
জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান, বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নিয়ে নিহত শাহেদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় শাহেদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পরিবারটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ ১৩ দিন পর মরদেহ দেশে ফিরে আসায় একদিকে যেমন স্বজনেরা শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানানোর সুযোগ পেয়েছেন, অন্যদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক আরও গভীর হয়ে উঠেছে। তার মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে।