গঙ্গাচড়ায় চাঁদা না পেয়ে জমি দখল, ভুয়া দলিল উপস্থাপন,মানসিক চাপে বৃদ্ধ অসুস্থের অভিযোগ :একাধিক শালীসেও মেলেনি সমাধান।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার ভুটকা এলাকায় জমির বৈধ মালিকানা থাকা সত্বেও জমি বেদখলের ঘটনা ঘটেছে। ভুয়া দলিল উপস্থাপন, জমি বেদখলের দুশ্চিন্তা ঘিরে বৃদ্ধ অসুস্থ ও বেদখলের ঘটনায় একাধিক শালিসি বৈঠকেও মেলেনি সমাধান।
লিখিত অভিযোগে দেখা যায়, আব্দুল হামিদ এর ক্রয়কৃত ও নিজ নামীয় আর এস রেকর্ডভুক্ত ৮৮:শতক জমি গত ৩০/০৬/২০০৪ ইং তারিখে ৪৯১০ নং দলীল মুলে মমতাজ বেগমের নিকট হস্তান্তর করেন। যা মমতাজ বেগম মালিক হিসেবে ৮৮ শতক এর মধ্যে ৬০ শতক জমি গত ০৬/০১/২০১১ইং তারিখে ১২০ নং দলিল মুলে শামসুদ্দিনের নিকট বিক্রয় করেন। পরবর্তীতে গত ২৪/০৫/২০১১ ইং তারিখে অবশিষ্ট ২৮ শতক জমি ২৮০ নং দলিল মুলে সাজু মিয়া গং ক্রয় করেন। অর্থাৎ ১২০ ও ২৮০:নং দলীল মুলে মমতাজ বেগম মোট ৮৮ শতক জমি বিক্রয় করেন।যা পরবর্তীতে নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।
পরবর্তীতে ,আব্দুস ছাত্তার ও আবুস সালাম উভয়ে গত ০৭/০৬/২০১১ ইং তারিখে ১৪ ২/৩ শতক জমি ৩০৫১ দলিল মূলে সাজু মিয়া গং এর নিকট এবং ৭ ১/২ শতক জমি আসাদুজ্জামান গত ১৭/১১/২০১২ ইং তারিখে ৩৮৮৬ নং দলিল মুলে সাজু মিয়া গং এর নিকট বিক্রয় করে।
ক্রয় মুলে মালিকানা সত্ত্বে ক্রেতাগণ শান্তি শৃঙ্খলার সাথে চাষাবাদ ও বোগদখল করে আসাকালীন গত ছয় মাস পূর্বে শামসুদ্দিন তার মালিকানাভুক্ত জমি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বায়না দলিল করিলে প্রতিপক্ষ ভুটকা এলাকার মৃত ছানার উদ্দীনের পুত্র জবর দখলকারী ভূমিদস্যু দুলাল মিয়া, জাকির হোসেন, হেলাল মিয়া, সাইদুল ইসলাম, বেলাল মিয়া শামসুদ্দিনের নিকট ১০ লক্ষ টাকা চা্ঁদা দাবি করে।দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় শামসুদ্দিনের ৩০ শতক জমি জোরপূর্বক কদল করে। শামসুদ্দিন বিষয়টি স্বভাবিকভাবে নিতে না পারায় মানসিক চাপে স্ট্রোক করেন এবং তার প্যারালাইজ্ড হয়। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে জমি বেদখল এবং হুমকি ধামকির বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রতিপক্ষের কাছে জোর পূর্বক জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী পক্ষ থানা পুলিশের নিকট ১২/১২/১৯৬৩ তারিখে সম্পাদিত দলিল নং ৩৪৭৫৮, ২৯/০৯/১৯৭৫ ইং তারিখে সম্পাদিত দলিল নং ৪৩৬৫৪, ১০/০৯/১৯৬৬ ইং তারিখে সম্পাদিত দলিল নং – ২৩১১৮।
থানায় দাখিলকৃত দলীল রংপুর সাবরেজিস্টার অফিসে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ৩৪৭৫৮ দলিলটির দাতা আনবি বেওয়া জওজে আছান মুন্সি, সাং- ভুটকা নয় , যার প্রকৃত দাতা জবুলা খাতুন বিবি, পিতা – বশির উদ্দীন সাং – আলম নগর, কোতোয়ালি, রংপুর। দলিল নং- ২৫১১৮ এর দাতা অনবি বেওয়া, জওজে আছান মুন্সি, সাং – ভুটকা, গঙ্গাচড়া নয়, যার প্রকৃত দাতা জহুরন নেছা, পিতা – আছের উদ্দিন, সাং – রমাকান্ত, গঙ্গাচড়া। এবং দলিল নং – ৪৩৬৫৪ এর সঙ্গে অফিসে রক্ষিত বালাম বইয়ের তথ্য সম্পুর্ন অমিল।
ভুক্তভোগী সাজু মিয়া বলেন এ ঘটনায়, গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পরপর ৩ বার শালিসি বৈঠক বসলেও বিবাদী পক্ষ বারংবার ভুয়া দলিল উপস্থাপন করে শালিস ভন্ডুল করে। সাজু মিয়া চায়, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশের সহায়তা এবংএলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।