পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের আউলিয়ার ডাঙ্গা এলাকায় রেজাউল ইসলাম রায়হান ও জুনায়েদ খন্দকারের ইয়াকুব আলী ওয়ারিশ বর্গের কাছ থেকে ইজারাকৃত ৬ একর চা বাগানের সেচের পাইপসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় ইয়াকুব ও ওয়ারিশবর্গ, কেয়ারটেকারের কক্ষে তালা লাগানো এবং তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইয়াকুব আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ইয়াকুব আলী দাবি করেছেন, রায়হান ইসলাম সাত বছর ধরে তাঁর চা বাগান জবরদখল করে ভোগ করছেন। এ কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী কেয়ারটেকারের রুমে তালা দিয়েছেন বলে জানান।

চা বাগানটির ইজারাগ্রহীতা রায়হান ইসলামের দাবি, ইয়াকুব আলী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ২৫ বছরের জন্য জমিটি ইজারা নিয়েছেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম সাত বছরের ইজারার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছেন। তবে টাকা পরিশোধের পর থেকেই বাগান পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

রায়হান ইসলাম অভিযোগ, বাগান থেকে চা-পাতা কাটার মেশিন, সেচ মেশিন, পাওয়ার স্প্রে মেশিন, পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কেজি সেচের পাইপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বাদশা মিয়া ও জিন্নাত আলীর নাম উল্লেখ করেছেন রায়হান ইসলাম। বাদশা মিয়া জানান, তিনি একটি সেতুতে গার্ড হিসেবে কাজ করেন। দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিজের চোখে দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, জিন্নাত আলী বলেন, “আমি নিজের চা বাগানে কাজ করছিলাম। দূর থেকে কিছুটা দেখা যায়, সেখানে তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে আমি সেখানে যেতে পারিনি। কারণ, রায়হান মিয়ার বাগানে কাজ করার কারণে আমার নামে মামলা করা হয়েছে।”

এ ছাড়া বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কেয়ারটেকারকে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন রায়হান ইসলাম। তাঁর দাবি, কেয়ারটেকারের কক্ষে তালা লাগিয়ে তাঁকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে কেয়ারটেকার বাগান ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্যে ইয়াকুব আলী বলেন, “আমি আর আমার স্ত্রী তালা মেরেছি। কারণ, রায়হান মিয়া সাত বছর ধরে জবরদখল করে আমার চা বাগানটি খাচ্ছে। এ জন্য আমি তালা মেরেছি।”

রায়হান ইসলামের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তির ভিত্তিতে তিনি চা বাগানে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়া এবং বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার কারণে তিনি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি, এ বিরোধের মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় ইজারা চুক্তি, অগ্রিম টাকা পরিশোধের প্রমাণ এবং যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রায়হান মিয়া।

চা বাগানের জমির ইজারা, মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ স্পষ্ট। তবে ইজারা চুক্তির কাগজপত্র, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যাচাই করা হলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।