লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন হ্যারি কেইন। তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান স্ট্রাইকার। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বর্ষসেরা এই ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের ইতিহাস গড়লেন তিনি।

লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল এবারের ব্যালন ডি’অরের জমকালো আসর। খাম খুলে যখন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো বিজয়ী হিসেবে কেইনের নাম ঘোষণা করেন, তখন চারদিকে ‘হ্যারি, হ্যারি’ উল্লাস শুরু হয়।

পুরস্কার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত কেইন বলেন, ‘বাহ, বাহ, বাহ! আমি প্রায় ভাষাহীন। লন্ডনে অনুষ্ঠানটি হওয়ায় এটি আমার কাছে আরও বিশেষ কিছু। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ। নির্বাচন করাটা নিশ্চয়ই বেশ কঠিন ছিল।’ জেদ এবং কঠোর পরিশ্রম যে সত্যিই সাফল্য এনে দেয়, আজ সেটাই প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বমানের সব খেলোয়াড় ও মনোনীতদেরও অভিনন্দন জানান।

কেইনের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। বিচারকেরা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিচারের ক্ষেত্রে শুধু সাম্প্রতিক মৌসুমটি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে কেইন মোট ৭৩টি গোল করেছেন। ওই মৌসুমে তিনি ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব গোলদাতাও ছিলেন।

এছাড়া টানা তিন মৌসুম ধরে জার্মান লিগ বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০২৩ সাল থেকে বায়ার্নের হয়ে ১৫৮ ম্যাচ খেলে চোখধাঁধানো ১৫৬টি গোল করেছেন তিনি। এর ফলে তিনি জার্মান ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন।

শুধু ক্লাবেই নয়, জাতীয় দলের হয়েও কেইন ছিলেন দারুণ সফল। তার নৈপুণ্যেই ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর সেরা সাফল্য পেয়েছে ইংল্যান্ড। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ মেডেল জয় করে ইংলিশরা। আসরে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন হ্যারি কেইন।