লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সার সংকটের অভিযোগ ও ডিলারের সিন্ডিকেটের অনিয়মের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ভুট্টা চাষের এই ভরা মৌসুমে সময়মতো সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সড়কে নেমে আসেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এই বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হলেও স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট তৈরি করে কালোবাজারে সার বিক্রি এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। গভীর রাতে ডিলারের লোকজন নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিলেও সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আশরাফুল আলম (৫০) আক্ষেপ করে বলেন, “যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তবে কৃষক ও তাদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।”
৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক তমালকান্ত রায় (৩৫) বলেন, “ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহ চাই। সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
আরেক কৃষক আমিনুল ইসলাম (৫৫) জানান, ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। কারণ, এই এলাকার মানুষের সারা বছরের সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর।
এ বিষয়ে পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুল আলম সাদাত বলেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তার আশ্বাসের পর কৃষকরা আন্দোলন থেকে সরে গেছেন এবং বর্তমানে তারা সুষ্ঠুভাবে সার পাচ্ছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুন্না ট্রেডার্সের মালিক ও বিসিআইসি সারের ডিলার ওয়াসিউজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ বলেন, “সার বিতরণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে বিতরণ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আগামী মাসের বরাদ্দের সার দিতে পারব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে তা শেষ হবে। কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।”
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র বলেন, “কৃষক ভাইদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত আছে এবং যাদের সার কার্ড রয়েছে, তারা সবাই সার পাবেন। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কৃষকরা আমাদের কথা শুনেছেন এবং কার্ডগুলো আমাদের দিয়েছেন। পরবর্তীতে কার্ডের মাধ্যমেই সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে। আশা করি এই সংকট দ্রুত নিরসন হবে।”