সুনামগঞ্জ- বিশ্বম্বপুর ও তাহিরপুরের সাথে জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক উঁচুকরণসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজে সড়ক বিভাগের ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নিন্নমানের কাজটির বিষয়ে স্হানীয় বাসিন্দাদের নানামুখী অভিযোগ ও ভোক্ষ রয়েছে। স্হানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের সংসদ সদস্য (সুনামগঞ্জ -৪)এডভোকেট নূরুল ইসলাম নুরুল গত মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে নিম্নমানের নির্মাণকাজ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্হানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নূরুল ইসলাম অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগনের সামনে সরেজমিনে গিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দূর্বল প্রকৃতির কাজ দেখতে পেয়ে ঠিকাদারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।
এই ঘটনার ঘণ্টা খানিক যেতে না যেতেই কাকতালীয় ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ভিত্তিহীন অভিযোগ করে দরখাস্ত করেন নির্মাণ প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম।
সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যে অভিযোগ করার কারণে স্হানীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগনের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তারা বলেন আওয়ামী লীগের দোসর ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম ফ্যাসিবাদের আমলের মতো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে চায় আমরা এম পি মহোদয় কে সাথে নিয়ে সাময়িক কাজ বন্ধ রেখেছি। স্হানীয় বাসিন্দারা জানান
তাতেই ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।

খুঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পের মূল ঠিকাদার বদরুল ইকবাল তিনি ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে চলে যান। মুল ঠিকাদারের নিকট থেকে ২০ কোটি টাকায় কাজটির সাব-ঠিকাদারি নেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আজাদ হোসেন জেলে চলে গেলে সড়কের প্রকল্প কাজের দায়িত্ব নিয়ে নেন আওয়ামীপন্থি অন্য ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম।

গতকাল দুপুরে ফের সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী, দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে নির্মাণকাজ এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য।

স্হানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নূরুল ইসলাম নুরুল বলেন, গত মঙ্গলবারে একটি অনুষ্ঠান থেকে যাওয়ার পথে এলাকার সাধারণ জনগণ আমাকে দাঁড় করিয়ে নির্মাণ কাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। তখন আমি নিজেও দেখতে পাই সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। মাটি কমম্পেকশন না করে জিও টেক্টের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে।
ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কৃষি জমির টপ সয়েল।
যা দেখে আমি হতবাক হয়ে স্হানীয় জনসাধারণের সামনেই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে গুণগত মানের সামগ্রী দিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগকে অবহিত করি।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, এমপি মহোদয়ের উত্থাপিত অভিযোগগুলো আমরা সরজমিন তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব।
সাব ঠিকাদার শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানান জন্য বারবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।