সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে জেলাজুড়ে ৯৪টি অভিযান পরিচালনা করে ৩১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অক্টোবর মাসের তথ্য অনুযায়ী, মাসজুড়ে পরিচালিত ৯৪টি অভিযানের মধ্যে নিয়মিত মামলা হয়েছে ১৭টি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামলা হয়েছে ১৪টি। সব মিলিয়ে মামলার সংখ্যা ৩১টি।
অভিযানগুলোতে মোট ৩২ জন আসামির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ৯ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
অক্টোবর মাসে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১৩ কেজি ২০৫ গ্রাম গাঁজা, ২৬ পিস ইয়াবা, ১৪ বোতল বিয়ার, ৬ বোতল বিদেশি মদ, ৮২ লিটার চোলাই মদ এবং ৩ হাজার ৭০০ লিটার ওয়াশ।
এ ছাড়া মাদক সংশ্লিষ্ট একটি মোবাইল ফোনসেট ও নগদ ২ লাখ ১৪ হাজার ৮২০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামতের আনুমানিক মোট মূল্য ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৯২০ টাকা বলে ডিএনসির তথ্যছকে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে গাঁজার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা, ইয়াবার ১৩ হাজার টাকা, বিয়ারের ১৪ হাজার টাকা, বিদেশি মদের ৬ হাজার টাকা, চোলাই মদের ৮২ হাজার টাকা, ওয়াশের ৭৪ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনসেটের মূল্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে অক্টোবর মাসে ডিএনসির ধারাবাহিক অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মামলা দায়েরের পাশাপাশি মাদক কারবারে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচারণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সুনামগঞ্জকে মাদকের বিস্তার থেকে রক্ষা করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।