যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বরুপদাহ ইউনিয়নে ডিলারশিপ নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সারের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, দৃশ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উপযুক্ত গুদাম সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও মেসার্স মাহিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম কে ডিলার পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিক সমাজ।”
সরেজমিনে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বরুপদাহ ইউনিয়ন থেকে সারের ডিলারশিপের জন্য অনেক প্রার্থী আবেদন করলেও আবেদনের তালিকায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক স্থানীয় ব্যবসায়ী থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে মাহিম ট্রেডার্স কে বেছে নেওয়া হয়।”
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর এর নিজের কোন গোডাউন নেই,,স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঘর কে তিনি গোডাউন দেখিয়েছে,একই গোডাউন চৌগাছা উপজেলা বিএনপির মহিলা নেত্রী আলেয়া বেগম ও দেখিয়েছে,
গোডাউন দেখানো কে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও আলেয়ার স্বামী লোটন এর সঙ্গে হাতাহাতি হয় কৃষি কর্মকর্তার সামনেই। দূজনেই একই গোডাউনের মালিকানা নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। গোডাউনের বিষয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি বলেন -স্কুলের ঘর জাহাঙ্গীর বা আলেয়া বেগম কারো কাছে ভাড়া দিইনি, কেও কাগজ পত্র দেখালে তা অবশ্যই ভুয়া,,স্কুলের থেকে ঘর ভাড়া নিয়েছেন বজলুর রহমান টাইরে,গোডাউন এখনো তার পাট,ধান মজুদ রয়েছে। স্বরপদাহ ইউনিয়নে যে কয়েকজন আবেদন করেন, তার মধ্যে ফয়সাল ট্রেডার্স, যার স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান হবি,ও আব্দুর সাত্তার ও মাহিম ট্রেডার্স -জাহাঙ্গীর আলম কে বাছাই করে চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ফয়সাল ট্রেডার্স এর রয়েছে নিজশ্ব গোডাউন, দীর্ঘ বছরের সার বিক্রির অভিজ্ঞতা,,তিনি রাজনৈতিক ভাবে চৌগাছা উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি, আব্দূর সাত্তারের কোন গোডাউন নেই, নেই সার বিক্রির কোন অভিজ্ঞতা।সার ডিলার নীতিমালা অনুযায়ী হাবিবুর রহমান হবি ডিলার নিয়োগ পাবেন স্বাভাবিক। সেখানে ফয়সাল ট্রেডার্স কে বাদ দিয়ে, কোন নিয়মনীতি অনুসরণ না করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা বেগম ও কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন মিলে মাহিম ট্রেডার্স কে ১ নং এ চুড়ান্ত অনুমোদন করেন।। ”
স্থানীয়রা জানান চৌগাছা উপজেলা ইউএনও ফারাজানা বেগম এর বন্ধু মাহিম ট্রেডার্স এর মালিক জাহাঙ্গীর এর আপন ভাই সাহাঙ্গীর,,সাহাঙ্গীর এর তদবির এর মাধ্যমে জাহাঙ্গীর এর সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছে।।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জাহাঙ্গীর এর ভাই সাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন, তিনি তৎকালীন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হাবিবুর রহমান খান পিএসসি ডান বলে পরিচয় দিতেন।।
মাশিলা এলাকায় যত বিএনপি নির্যাতন হয়েছে, তার একমাত্র নাটের গুরু ছিলেন এই সাহাঙ্গীর।। সারের ডিলার নিয়োগ পেতে হলে অবশ্যই প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা বা অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল প্রভাব ও অনৈতিক সুবিধার জোরে এই ডিলারশিপ হাসিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”
সারের ডিলারশিপ নীতিমালায় পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নিজস্ব বা ভাড়া করা উপযুক্ত গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডিলারশিপ পাওয়ার আগে স্বরুপদাহ ইউনিয়নের মাশিলা বাজারে বা কোথাও কোনো দৃশ্যমান সারের দোকান বা গুদাম ছিল না জাহাঙ্গীর আলমের। “”
অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তা কে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি এই সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন, স্কুলের ঘর অন্যের ভাড়া নেওয়া কক্ষকে ভুয়া গুদাম বানিয়ে কাগজে-কলমে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।যার সহায়তা করেন স্বয়ং কৃষি কর্মকর্তা নিজ।।
ডিলার নিয়োগ পাওয়ার পরও জাহাঙ্গীর এর নিজশ্ব গোডাউন নেই।।
স্কুল কতৃপক্ষ যে ঘর ভাড়া দিয়েছেন বজলুর রহমান টাইরের কাছ,,তা ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ ও প্রদান করেছেন প্রধান শিক্ষাক শাহিনুর রহমান,,,খোদ ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাহাঙ্গীর এর নিজের কোন গোডাউন নেই,, তাহলে কিভাবে তিনি সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন ”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনিটরিং কমিটির প্রতিনিধিরা সরেজমিনে সঠিক তদন্ত করেই ভুয়া রিপোট তৈরি করে প্রভাব বা অনৈতিক সুবিধার কাছে নতিস্বীকার করেছেন।
ভুক্তভোগী সার ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি ১০/১৫’ বছরেরও বেশি সময় ধরে সব নিয়ম-নীতি মেনে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছি। নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করার পরও আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ যে জাহাঙ্গীর এর এখানে কোনো গেডাউন নেই, , তাকে রাতারাতি ডিলার বানিয়ে দেওয়া হলো! মনিটরিং কমিটি কী যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নিল, তা বোধগম্য নয়।”
তিনি অনতি বিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে সব প্রার্থীর যোগ্যতা ও কাগজপত্র পুনর্নিরীক্ষার জোর দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার ক্ষমতা আছে, আমি ডিলার নিয়োগ পাইছি,,কার কি করার আছে করুক,,
তবে এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা ইউএনও ফারাজানা বেগম এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে কয়েকবার অফিসে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি অফিসে আসেনি, মুঠোফোন কল করলে তিনি রিসিভ করেননি,,তিনি ও কৃষি কর্মকর্তা মিলে যে চুড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছেন, তার কপি চেয়ে টেক্স করলেও তিনি উত্তর দেননি।।বরং লোকজন দিয়ে প্রতিবেদকে হুমকি বার্তা দিয়েছেন।।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন –আমি কিছু জানিনা,,সবকিছু ইউএনও মহোদয় করছেন, রিপোর্ট দিয়েছেন,,
গোডাউন না থাকার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মুসাব্বির হুসাইন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ” চৌগাছা উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে দূর্নীতি করেছেন ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তা বলে সকলের অভিযোগ,, লোকজন জানান এই ইউএনও ও কৃষি কর্মকর্তা চৌগাছা উপজেলায় যোগাযোগ করার পর থেকে কাওকে তোয়াক্কা করেন না, যা করেন নিজেদের ইচ্ছে মত।
১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে মাদক কারবারের কারাবাসে তার বাবা বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ- শ্যামল বিশ্বাস,ধূলিয়ানী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ী মামলা চলমান লিমন এন্টারপ্রাইজ -রনজু বেগম, নারায়ণপুর ইনিয়নে -আমেন ট্রেডার্স যার কোন গোডাউন নেই, চুক্তিও নেই, পাশাপোল ইউনিয়ন –রিমন ট্রেডার্স -ইমদাদুল হক একজন ফ্যাসিস্ট,
এছাড়াও যাদের কে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,, তারা কেও নীতিমালা অনুসরণ করেননি,কেও সার ব্যবসায়ী না।তাদেরকেও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে,,
জনগণের জানার আগ্রহ –যদি রাজনৈতিক নেতারা লিস্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে তাদের দেওয়া লিস্ট ইউএনও ফারাজানা বেগম দেখেছেন,ফাইনাল লিস্ট তিনিই দিয়েছেন, কিভাবে মাদক কারবারি, ফ্যাসিষ্ট ও যারা কখনো সারের ব্যবসা করেনি,তারা কিভাবে ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন।কিসের বিনিময়ে তিনি এই সারের ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন।।
এতো ফ্যাসিষ্ট কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বদলি হয়েছে তারপর বদলি হয় না,কারনও অজানা থেকে গেলো।
এ বিষয়ে যশোর জেলা জেলা প্রশাসক –মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, “প্রত্যেক উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে আমার কাছে পঠানো হয়েছে,আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছি, ঢাকা থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর পরেও কোনো তথ্য গোপন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার ডিলার নিয়োগ হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এমনিতে ৬ টি জেলার সার ডিলার নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে, তারমধ্য যশোর ও রয়েছে, তদন্ত কমিটি আসবে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।