তথ্য অধিকার আইনে চাহিত তথ্য দিতে গড়িমসি ও তথ্য সরবরাহে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করে তথ্য প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ে তথ্য পাননি দৈনিক মানবজমিনের হরিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি সজিব গুহ মজুমদার। পরে আপিল করার পর তথ্য সরবরাহের জন্য তাঁকে ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করতে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তবে, তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত কয়েকগুণ বেশি মূল্য দাবি করেছেন বলে দাবি সাংবাদিকের।
জানা যায়, তথ্য অধিকার আইনে গত ২৩ আগস্ট দৈনিক মানবজমিনের হরিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি সজিব গুহ মজুমদার উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) প্রকল্পের ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কাজ করা শ্রমিক ও সুপারভাইজাদের তালিকা, প্রকল্পে নিয়োগের যোগ্যতা, শর্তাবলী ও নীতিমালা এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রকল্পে নিয়োগের জন্য আবেদনকারীদের তালিকা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কমিটির তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। আইন অনুযায়ী, ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ অথবা তথ্য দিতে অপারগতার নোটিশ দেওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলী আবেদনকারীকে কোনো তথ্য সরবরাহ করেননি এবং অপারগতার নোটিশও দেননি।
পরবর্তীতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আপীল আবেদন করেন সজিব গুহ মজুমদার। এরপর গত ৬ অক্টোবর সাংবাদিকের ইমেইলে তিনি চাহিত তথ্য তার দপ্তরে মজুত আছে জানিয়ে তথ্য নিতে ৭ হাজার টাকা মূল্য পরিশোধের জন্য চিঠি দেন। কিন্তু চিঠিতে তিনি চাহিত তথ্য মোট কত পৃষ্ঠা তা উল্লেখ করেননি। পরদিন ৭ অক্টোবর সাংবাদিক সজিব গুহ মজুমদার তার চাহিত তথ্যের পৃষ্ঠা উল্লেখপূর্বক তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ৮ অনুযায়ী তথ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে পুনরায় চিঠি দেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু অদ্যবধি তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘এত পৃষ্ঠা গোনা সম্ভব নয়। তথ্যের জন্য ৭ হাজার টাকাই পরিশোধ করতে হবে।’
তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী লিখিত কোনো ডকুমেন্টের কপি সরবরাহের জন্য (ম্যাপ, নক্শা, ছবি, কম্পিউটার প্রিন্টসহ) এ-৪ ও এ-৩ মাপের কাগজের ক্ষেত্রে প্রতি পৃষ্ঠা ২ (দুই) টাকা হারে নির্ধারণ করা আছে। বিষয়টি জানালে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘এটা তো সব পুরাতন রেট। ওই রেটে তো আপনি পাবেন না এখন। আজ থেকে ১০ বছর আগে ৫ টাকায় কলম পাওয়া যাইতো, এখন ৫ টাকায় কোথাও বলপেন পাবেন?’
সাংবাদিক সজিব গুহ মজুমদার বলেন, তিনি আমাকে ৭ হাজার টাকা পরিশোধের চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু চিঠিতে আমার চাহিত পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করেননি। তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা, ২০০৯ অনুযায়ী এ-৪ ও এ-৩ মাপের কাগজের ক্ষেত্রে প্রতি পৃষ্ঠা ২ (দুই) টাকা হারে মূল্য নির্ধারণ করা আছে। আমার চাহিত তথ্যের পরিমাণ কোনোভাবেই ২০০ পৃষ্ঠার বেশি হওয়ার কথা নয়। সেক্ষেত্রে ২০০ পৃষ্ঠা হলে, তার মূল্য আসে ৪০০ টাকা। তিনি আমার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে তথ্য কমিশনে অভিযোগ করার কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমার কাছে আপিল করার পরে আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়ে সাংবাদিকদের চাহিত তথ্য দিতে বলেছি। এক্ষেত্রে আমার যতটুকু করণীয় ছিলো, সেটুকু আমি করেছি। সরকার যদি তথ্যের মূল্য পরিবর্তন না করে সেক্ষেত্রে তো আগের মূল্য অনুযায়ীই তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনগড়া ফি নির্ধারণের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমি তার (উপজেলা প্রকৌশলী) সাথে কথা বলবো।