কুড়িগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা তালবাহানা। কখনো শোনা যাচ্ছে নালিয়ার দোলা চূড়ান্ত, আবার কখনো শোনা যাচ্ছে ছিনাই ইউনিয়ন চূড়ান্ত, কখনো বা শোনা যাচ্ছে ধরলা ব্রিজের পাশে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো জায়গাই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিল পাস হয়। এরপর আলোচনা শুরু হয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে। সে সময়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা হিসেবে নির্ধারণ করা হয় নালিয়ার দোলা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ভবন গড়ে উঠেনি। বর্তমানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা জায়গায় অস্থায়ী ক্যাম্পাস করে কার্যক্রম চলছে। এরমধ্যেই জেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এ নিয়ে জেলায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। এবং কখনো কখনো আন্দোলন সংগ্রামও দৃশ্যমান হয়েছিল। শুধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনা নিয়ে। তবে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রাম করেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী জায়গা নির্ধারণ করা সম্ভব না হওয়ায়, জেলার মানুষদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। কোথায় হবে, কখন হবে, তা প্রায় অনিশ্চিত জেলাবাসীর কাছে। এরই মধ্যে গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রাম জেলায় হচ্ছে না। এমন কিছু পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য জেলার মানুষদের মাঝে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা।
জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মুখে মুখে জন্ম নিয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় হচ্ছে। এবং একই সাথে অনেকে কথিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট নিয়ে প্রতিবাদ সরূপ দাবিও তুলছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন এর পিছনের কোনো বড় চক্রের হাত রয়েছে। তবে জেলা বাসীর দাবি কুড়িগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামেই হতে হবে। গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামের ছিনাই ইউনিয়নে স্থাপন করা হবে। এবং পরবর্তীতে ছিনাই ইউনিয়ন লালমনিরহাট জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে কুড়িগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলে যাবে লালমনিরহাটে। এমন খবর জেলায় রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবৃন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎ এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় জেলায় জুুড়ে বর্তমান থমথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছড়িয়ে পড়া পোস্টের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। সবার দাবি একটাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামের মাটিতে হতে হবে। কোনো কুচক্রি মহল এতে জড়িতে থেকে বাধা সৃষ্টি করলে কুড়িগ্রামবাসী তাদেন বয়কট করবে। সর্বস্তরের জনগণের দাবি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যদি কোনো গোষ্ঠি স্বার্থান্বেষী হয় তাহলে অচীরেই তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্রের তালবাহানা মানবে না এই জেলার মানুষ এমনটি দাবি সবার।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সাড়া পড়েছে কুড়িগ্রামের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। কুড়িগ্রাম জেলার রাজনৈতিক দলগুলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সবার মতো তাদেরও চাওয়া একটাই হয়ে দাড়িয়েছে। কুড়িগ্রামের নামে আসা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামই প্রতিষ্ঠা করা হবে। এমন দাবি তুলেছেন জেলার বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মতো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। অনেকে এ নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে নিজেদের ফেসবুক পেজ ও আইডিতে পোস্ট করেছেন।
বিএনপির জেলা সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ তিনি তার ফেসবুক পেজে লেখেছেনে, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামই হবে ইনশাআল্লাহ।
এরপর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ তিনি বলেছেন, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইনশাআল্লাহ কুড়িগ্রামই হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা তিনি তার ফেসবুক পেজে লেখেছেনে, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামের মাটিতেই প্রতিষ্ঠা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
কুড়িগ্রামে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সুশীল সমাজ, চিন্তাবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের দাবি একটাই, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কুড়িগ্রামই করা হোক।
তবে সরকারিভাবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো জায়গা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।