শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খাটিয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। বর্তমানে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রস্তুতিমূলক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্কুল ড্রেস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই ও সহকারী শিক্ষকগণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও রয়েছে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ। স্কাউটিং, খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, লাইব্রেরিতে পাঠাভ্যাস, বিজ্ঞানাগারে ব্যবহারিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ধারণা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। স্কাউটিংয়ে জেলা পর্যায়ের ক্যাম্পে সেরা দশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যরা। বগুড়ার গাবতলীর সৈয়দ আহমেদ আলী কলেজে অনুষ্ঠিত ওই ক্যাম্পে তাদের এ অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য গৌরব বয়ে আনে।
খেলাধুলাতেও রয়েছে শিক্ষার্থীদের সাফল্য। ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিত প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিদ্যালয়টি। পাশাপাশি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৭ প্রতিযোগিতায় ফুটবলে পাঁচজন এবং সাঁতারে একজন শিক্ষার্থী উপজেলা পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পিছিয়ে নেই শিক্ষার্থীরা। নজরুলসংগীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী করতে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে নিয়মিত ব্যবহারিক ক্লাস পরিচালনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। তবে বিজ্ঞানাগারে আরও আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি একটি উন্নত ও আধুনিক ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমের সঙ্গে কথা হয়। সে বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে কথা হয় নির্বচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম ও ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে। তারা পরীক্ষার সিলেবাস, প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের সহযোগিতার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানায়।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুল হাই জানান, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত পাঠদান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গত বছর বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। এবার আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও ফলাফলের উন্নয়নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
সহকারী শিক্ষক হাসিনুর রহমান জানান, নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। যাদের ফলাফল তুলনামূলক দুর্বল হবে, তাদের চিহ্নিত করে বিশেষ পাঠদান ও অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরির সমন্বিত প্রচেষ্টায় খাটিয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের প্রত্যাশার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।