নীলফামারী শহরের ব্যস্ততম সড়কের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল ও অবৈধ স্থাপনার দখলে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে রয়েছে। কোথাও দোকানের পসরা, কোথাও মালামাল রেখে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। আবার কোথাও স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনার কারণে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ নেই। ফলে নারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এ সড়কে মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। এ সময় ফুটপাত দখল থাকায় পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। একদিকে দ্রুতগতির যানবাহন, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচল—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও তা এখন অনেক জায়গায় ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনায়।
এলাকাবাসীর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুধু নোটিশ প্রদান কিংবা সাময়িক তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান এবং দখলমুক্ত ফুটপাত পুনরায় দখল ঠেকাতে স্থায়ী ব্যবস্থা। অন্যথায় অভিযান পরিচালনার পরও আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত ফুটপাতের অবৈধ দখল দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি ফুটপাতের ওপর মালামাল রাখা ও অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা। তাই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দখলমুক্ত ফুটপাত নিশ্চিত করা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
এ অবস্থায় নীলফামারী পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের জোর দাবি, আর কালক্ষেপণ নয়—চৌরঙ্গী মোড় থেকে কালীতলা পর্যন্ত দ্রুত কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাতে কেউ আবার ফুটপাত দখল করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হোক।