নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বালিয়াডাঙা গ্রামে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক অন্যের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় জমির সীমানার বেড়া ভেঙে ফেলা এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশ কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান নড়াইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙা গ্রামের মৃত রমজান মোল্লার ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০) দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। একই এলাকার মৃত মকবুল মোল্লার ছেলে কামাল মোল্লা ও মাহমুদ মোল্লা, রাহুল সিকদার, শাহিন সিকদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। অথচ জমির পাশেই রাস্তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা ব্যবহার না করে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ব্যক্তিগত জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, সম্প্রতি কামাল মোল্লা ও তাঁর লোকজন জোরপূর্বক জমির সীমানায় দেওয়া বেড়া ভেঙে ফেলেন। একই সঙ্গে জমিতে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশ কেটে দেন। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে হাবিবুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার একটি পা নেই। অনেক কষ্টে এইটুকু সম্পত্তি করেছি। আমার এই সামান্য সম্পত্তির ওপরও তাঁদের নজর পড়েছে। আমি এখন কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব?’

ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে জমির প্রকৃত সীমানা ও রাস্তার জন্য নির্ধারিত জায়গা চিহ্নিত করা হোক এবং বেড়া ভাঙচুর ও গাছ কাটার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত কামাল মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, হাবিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত জমির অধিকার ও জনস্বার্থ—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে।