সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সারের ডিলারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে অভিনব কায়দায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে অসংখ্য কৃষক এই প্রতিবেদককের কাছে অভিযোগ করেছেন – স্হানীয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ বাজারে ৩ জন ডিলার মেসার্স মোস্তফা কামাল,প্রো বাবুল মিয়া, মেসার্স ভাই ভাই প্রো মাহবুব আলম ও অনন্ত তারা প্রত্যকেই এক বস্তা সারের দাম নিচ্ছেন ১ হাজার ৪০০ টাকা। মেমোতে লিখে দিচ্ছেন ১ হাজার ৫০ টাকার। প্রতি বস্তায় ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন।
উপস্হিত স্হানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস, আনোয়ার, কনুমিয়া, সাহিনুর, তাইজুদ্দিন, কবির, মঞ্জু, হাবিবসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন – ডিলাররা প্রতি বস্তার দাম নেন ১৪০০ টাকা মেমো দেন ১০৫০ টাকার। এটা আমাদের সাথে ভয়ানক প্রতারণা। তারা বলেন সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার দেওয়ার কথা বলিলে ডিলাররা নানা ভাবে হয়রানী করেন, সার অন্যত্র রেখে বলেন সার নেই বা উপজেলা ডিলারদের নিকট থেকে নিয়ে আসেন ইত্যাদি।ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান আমাদের জমিতে এখন বীজ রোপন করে সার প্রয়োগের সময় হয়রানী স্বীকার হওয়ার সময় নেই।
স্হানীয় সচেতন মহল জানান, কৃষকদের কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন – অতিরিক্ত টাকা আদায় করে মেমোতে প্রকৃত টাকার পরিমাণ লিখা হচ্ছে না এটা সাধারণ কৃষকদের সাথে প্রতারণা।
ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইউনিয়ন বি এন পির সভাপতি শাহেবুর আলম বলেন – অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে আমার কাছেও অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন আমি বিষয় টা সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসার কে অবগত করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হচ্ছে এটার জন্য তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখিত সাব ডিলাররা বলেন – মধ্যনগরের উপজেলা ডিলার আমাদের কাছে থেকে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন সেই জন্য আমরাও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছি।
প্রশ্ন উঠেছে, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে কেন?
ভুক্তভোগী কৃষকরা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্ত ডিলারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মেমো অনুযায়ী প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।