রাতভর ৪০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে মস্কো ও আশপাশের এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন বলে দাবি করেছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায়। সোমবার (২০ জুলাই) রুশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, ইউক্রেন রাতভর রাজধানীমুখী ৪০০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তিনি দাবি করেন, এর মধ্যে মস্কোর দিকে এগিয়ে আসা অন্তত ৮৫টি ড্রোন মাঝপথেই ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এ ঘটনাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে মস্কোর ওপর ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলার বড় অংশ প্রতিহত করা হলেও পোডোলস্ক, ডমোদেডোভো ও ওডিনত্সোভো জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে আগুন লাগে। এতে বেসামরিক অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।
ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে এ হামলা।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া ইস্কান্দার-এম এবং হাইপারসনিক জিরকন ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। গভীর রাত দেড়টার দিকে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠার পরপরই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা দেখা যায়। এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী কিয়েভ।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই নিজ নিজ হামলার ব্যাপারে বিভিন্ন দাবি করলেও সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স, এবিসি নিউজ।