শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফ্রান্স। এ সংক্রান্ত একটি আইন দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় এবং ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে ফ্রান্স।
নতুন আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু নতুন করে ফেসবুক, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইউটিউব বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একই সঙ্গে বর্তমানে এই বয়সসীমার নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টও বন্ধ করতে হবে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত চার মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি আইনপ্রণেতাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মনোযোগ, মানসিক বিকাশ ও সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অল্প বয়সীদের মধ্যে আসক্তি, উদ্বেগ ও একাকিত্বের প্রবণতা বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় সিনেট ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি যৌথভাবে আইনটি অনুমোদন করেছে।
আইন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যাতে ভুল তথ্য দিয়ে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে।
ফ্রান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়রমন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় ডিজিটাল জগতে বয়সভিত্তিক সীমারেখা নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। এই আইন ইউরোপে ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সমালোচনা করে আসছেন। তার মতে, শিশুদের পড়াশোনা, শেখা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবে নতুন আইন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, বয়সসীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ আগে থেকেই চালু রয়েছে। এরপরও আইন কার্যকর হলে তা মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছে তারা।
এদিকে, শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে ইউরোপীয় কমিশন। ফ্রান্সের নতুন আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স