‘হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই সম্পর্কের নাম দিয়েছিলাম স্বামী-স্ত্রী’—আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে পুলিশ সদস্য
রাজধানীর ডেমরায় কনস্টেবল মো. সাইদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা মো. ছাদেক। পারিবারিক কলহ ও মানসিকভাবে অপমান-অপদস্থ করার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।
মামলাটি গত সোমবার (২১ জুলাই) রাতে ডেমরা থানায় দায়ের করা হয়। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নিহত সাইদুল ইসলাম (১৯) ফেনী সদর উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ‘সি’ কোম্পানিতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহারে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ৪ মে সাইদুলের সঙ্গে রুবাইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে স্ত্রী ও শাশুড়ির কাছ থেকে তিনি অপমানজনক আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৬ জুলাই রাতে সাইদুল একটি ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার পর পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের আবাসিক ভবনে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পূর্বাঞ্চল আঞ্চলিক পুলিশ লাইনসের ইনচার্জ (ডিসি) কাজী নুসরাত লুনা জানান, সাইদুলের পারিবারিক জীবনে কিছুদিন ধরে মতপার্থক্য চলছিল। এছাড়া তার ফেসবুক পোস্টেও ব্যক্তিগত বিষয়ের উল্লেখ ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।