ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভারী মাত্রার’ হামলার দাবি, লক্ষ্য আইআরজিসির একাধিক সামরিক স্থাপনা

মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে আগের দিন চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানে ‘ভারী মাত্রার’ সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। খবর আল জাজিরা ও সিএনএনের।

সেন্টকমের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে আইআরজিসির সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংক্রান্ত অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকি কমিয়ে আনা।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফারস প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগরের কিশ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে।

তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, ফারস প্রদেশের কাজেরুন শহরের উপকণ্ঠের একটি এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে এ হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া কিশ দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে তাসনিম বলেছে, হামলার পরও কিশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহল নিবিড় নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন