ফিফার নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দেওয়ার পর এবার মধ্য ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ)ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশের ফুটবল সংস্থার সভাপতিদের বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া কৃত্রিমভাবে স্বল্প সময়সীমা নির্ধারণ, ফিফার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা ও অনুমোদনের অভাব এবং বিশ্বকাপের বিপুল আর্থিক সাফল্যের পরও কেন বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়ে সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এসব কারণেই কনকাকাফ ও এর ৪১টি সদস্য সংস্থা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে উয়েফা ঘোষণা দেয়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জন করবে।
ফিফা সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে প্রায় ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব রয়েছে। সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটার্নাল এবং এর প্রধান জশুয়া কুশনারের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানান, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। পাশাপাশি সমর্থনকারী সদস্য দেশগুলো এককালীন আরও ২ কোটি ডলার পাবে। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদন না হলে অনুদান ১ কোটি ডলারে সীমাবদ্ধ থাকবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোটে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই উয়েফার পাশাপাশি অন্যান্য কনফেডারেশনের অবস্থানও এখন প্রস্তাবটির ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কনকাকাফের এই সিদ্ধান্ত ফিফার পরিকল্পনার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।