বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার লেংটং খুমীপাড়ার এক খুমী পরিবারের হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়া দিয়েছে সবাইকে। একই পরিবারের দুই শিশুসন্তান হামের উপসর্গে মারা গেছে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আরও দুই অসুস্থ সন্তানকে বাঁচানোর আশায় বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দিন কাটাচ্ছেন বাবা তৈসাং খুমী ও মা নাংয়ো খুমী।
জানা গেছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সময়মতো চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ায় তাঁদের দুই সন্তান প্রাণ হারায়। বর্তমানে হামে আক্রান্ত আরও দুই সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় হাম ও কলেরায় অন্তত ২৯ জন আদিবাসী শিশু-কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি মাসেই রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আটজন খুমী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া থানচি ও আলীকদম উপজেলাতেও হামের উপসর্গে আক্রান্ত একাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু লেংটং খুমীপাড়াতেই সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও অনেক শিশু অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পাহাড়ি জনপদে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ওষুধ ও চিকিৎসাকর্মীর প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের এই মানবিক সংকট আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, সময়মতো টিকাদান ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিরোধযোগ্য রোগেও শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।