পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিতে তৈরি কথিত ভুয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পঞ্চগড় জেলার সচেতন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কৃত্রিমভাবে তৈরি। এর মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আন্তরিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার জায়গায় বিভেদ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হরিশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি সনাতনী সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃতভাবে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে সনাতনী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে তার ইতিবাচক ভূমিকা সনাতনী সমাজের প্রশংসা অর্জন করেছে। সেই বিশ্বাস ও সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হরিশ চন্দ্র রায় বলেন, আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে রাহেমীন মারিয়া এলিন নিজেই দাবি করেছেন, ভাইরাল ভিডিওতে দেখানো মুখটি তার হলেও বাস্তবে এমন কোনো ভিডিওর অস্তিত্ব নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রতিবেদনের ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, কিছু প্রতিবেদনে ব্যবহৃত শব্দচয়ন সনাতনী সম্প্রদায়কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঙ্গিত করেছে, যা নতুন করে বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।