ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মামলা বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি ও মামলা বাণিজ্য করেছে, এখনও একইভাবে মামলা বাণিজ্য চলছে। এখন জেলখানার গেট থেকেই আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। তাহলে দেশ পরিবর্তন হলো কোথায়? এই জন্যই কি আন্দোলন হয়েছিল? ৫ আগস্ট সবার। কেউ কেউ বর্ডার পার হয়ে রক্ষা পেয়েছে, আপনারা কোন বর্ডার পার হবেন— চিন্তা করে দেখেন।
তিনি আরও বলেন, “বীর সাজবেন, ভালো কথা। কিন্তু খোঁচাখুঁচি করবেন না। খোঁচাখুঁচি করলে আমি ছোট মাছ খাই না, বড় মাছই আমার ভালো লাগে। হাত দিলে আপনারা যাদের আব্বা ডাকেন, তাদের ইজ্জত থাকবে না।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, “আজ যারা নিজেদের বিপ্লবী দাবি করেন, তারা গত ১৫ বছর কোথায় ছিলেন, তা সবাই জানে। রাতের অন্ধকারে কার সঙ্গে কার ব্যবসা হয়েছে, কে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনীতি করেছে— জনগণ সব জানে।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শাহজাহান ভূঁইয়া, আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম ডালিম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার।
আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন জয়ন্তী বিশ্বাস, আরাফাত ও ইরফান। অনুষ্ঠানের শেষে আহত ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এদিকে অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন জুলাই যোদ্ধা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের মঞ্চে স্থান দেওয়া হলেও জুলাই যোদ্ধাদের পেছনের সারিতে বসানো হয়েছে।
এ ঘটনায় তারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও নিন্দা জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে প্রশাসনের আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেও সতর্ক করেন তারা।