রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী একরামিয়া বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদে নিজের ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ছবি ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানিয়েছেন বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহমুদুল ইসলাম (সবুজ)।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। অথচ একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার এবং বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম মুন্সির ছবি ব্যবহার করে তাদের অন্যায়ভাবে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক ভোগদখল, জমি বন্ধক রাখা কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি বা তাদের দল যুক্ত নয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ভিত্তিহীনভাবে তাদের ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে মাহমুদুল ইসলাম আরও বলেন, “সামনে বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়া এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম মুন্সির সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক থাকায় একটি মহল রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য এবং জমির দলিল সংক্রান্ত সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে জমি লিজ নেওয়া বেতগাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই জমি আমাদের দাদার আমল থেকেই আবাদ হয়ে আসছে। আগে ফসলের দুই ভাগের এক ভাগ মাদ্রাসায় জমা দেওয়া হতো, তবে ২০২২ সাল থেকে আমরা নিয়ম মেনে লিজের মাধ্যমে জমি আবাদ করছি। লিজের টাকা পরিশোধের বৈধ রশিদও আমাদের কাছে আছে।”
অন্যান্য বর্গা চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু জমি ব্যবসায়ী ১০০ বছরের জন্য মাদ্রাসার জমি লিজ নিয়ে খামার গড়ে তোলার চক্রান্ত করছে। বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মুন্সি উক্ত মাদ্রাসার সভাপতি হওয়ায় এবং মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক থাকায়, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে তাদের ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নাম জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে মাহমুদুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং অনুসন্ধানী ও সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।