রংপুরের তারাগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে এক চার্জার ভ্যানচালককে গলা টিপে ধরে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু হামলা নয়, পরে তার বাড়িতে গিয়ে মা ও স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে । এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাহানুর ইসলাম (৩০) তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্তে যাওয়া পুলিশের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধেও টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সাহানুর ইসলাম উপজেলার ৩ নম্বর ইকরচালী ইউনিয়নের চরকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চার্জার ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভ্যানে গাছের কাঁচা খড়ি নিয়ে চরকডাঙ্গা থেকে মেম্বারপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন সাহানুর। সেকেন্দার মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোসারফ ও জাহাঙ্গীর তার পথরোধ করেন। পূর্ববিরোধের জেরে তারা ভ্যানে থাকা কাঁচা খড়ি দিয়ে তাকে বেদম মারধর করেন।
তার অভিযোগ, ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকেন। বাড়িতে তাকে না পেয়ে তার মা ও স্ত্রীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের একজন নিজেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব দেখান বলেও অভিযোগ করেন সাহানুরের মা।
এরপর রাত ৮টার দিকে চরকডাঙ্গা বাজারে আতাউরের চায়ের দোকানের সামনে বসে চা পান করছিলেন সাহানুর সেখানে মোসারফ তাকে দেখতে পেয়ে অতর্কিতভাবে গলা টিপে ধরেন। পরে জাহাঙ্গীর ও শহিদুল তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে রহিদুল, মোকছেদুল ও সামসুলও সেখানে এসে মারধরে যোগ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাহানুরের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্তে আসা পুলিশের এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন সাহানুর। তার দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এএসআই তাকে দায়ী করে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে গাড়ির তেল খরচ ও সময় নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করে তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এএসআই ক্ষুব্ধ হয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চরকডাঙ্গা বাজারের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনার রাতে তারা সাহানুরকে চায়ের দোকানে বসে থাকতে দেখেছেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের কয়েকজনের অভিযোগ, অভিযুক্তদের পরিবারের একজন পুলিশ সদস্য হওয়ায় তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন সময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় সাহানুর ইসলাম হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুলিশের এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।