পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেড় শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা এবং জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের সোনাপোতা ঢাকাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. সামছুন নাহার বাদী হয়ে মো. ইনছান আলীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামছুন নাহারের সঙ্গে অভিযুক্তদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে মো. ইনছান আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে সামছুন নাহারের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে তারা জমিতে থাকা প্রায় ১৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ও উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন সামছুন নাহার। এতে প্রায় ৩২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জমির সীমানায় থাকা সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলে প্রায় ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের জিআই তারের বেড়া কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত ২৪ জুলাই মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছিলেন সামছুন নাহার। ওই মামলায় আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির বিভিন্ন অংশে গাছ কাটা ও উপড়ে ফেলার চিহ্ন রয়েছে। সীমানার বেশ কয়েকটি সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলা হয়েছে এবং জিআই তারের বেড়াও কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

ভুক্তভোগী সামছুন নাহার বলেন, “পৈতৃক সূত্রে প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ৫১ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছি। গত দুই বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে ইনছান আলীর সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার থানায় বসা হয়েছে। তারা কাগজ দেখানোর কথা বলে বারবার সময় নিলেও কাগজ দেখাতে পারেনি। এর আগেও মারধরের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তারা এখন জামিনে রয়েছে। সোমবার তারাই আমার জমির গাছ কেটে ফেলেছে, সিমেন্টের খুঁটি তুলে ফেলেছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইনছান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, “অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”