চলতি আগস্ট মাসেই দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও দিল্লিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও ২১ ও ২২ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে প্রস্তাব করেছে দিল্লি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরকালে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের থাকার জন্য হোটেল খোঁজা হচ্ছে। সম্ভাব্য হোটেল হিসেবে তাজ, মানসিং ও মৌর্য শেরাটনের নাম আলোচনায় রয়েছে। যেকোনো সময় ঢাকা ও দিল্লি যৌথভাবে সফরের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। তবে ২৮ আগস্টের পর সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সফরসূচি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে প্রতিবেশী দেশ ভারতে তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুটি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভারত সফরটি দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে করতে আগ্রহী। এ কারণে দিল্লি ২১ ও ২২ আগস্ট সম্ভাব্য সময় প্রস্তাব করেছে। তবে ঢাকা এখনো এ সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে সময় মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
সফরের সময়সূচি নির্ধারণে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যস্ততাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চলতি মাসের শেষ দিকে বিদেশ সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে আগস্টের মধ্যেই সফর আয়োজনের বিষয়ে দিল্লির আগ্রহ রয়েছে।
এদিকে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা।
এ ছাড়া শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গঙ্গার পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যু
সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও কানেক্টিভিটি।
চলতি বছরের ডিসেম্বরে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাই চুক্তি নবায়নের লক্ষ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের তারিখ নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া ভারতের ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের সূচি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং বিএসএফের মাধ্যমে জোরপূর্বক পুশইন বন্ধের বিষয়ও আলোচনার এজেন্ডায় থাকতে পারে।
দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতাকেও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।