ঝালকাঠি সদর উপজেলার মহাতপুর মৌজায় গাবখান নদীর উত্তর পাড়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ (ভেরি) ও স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের প্রধান রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা এতটাই প্রকট যে, রাস্তা ও বাঁধের অনেক অংশ বর্তমানে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহাতপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন যাপন করছে।
সরেজমিন পরিস্থিতি:
দীর্ঘদিন ধরে চলা নদী ভাঙ্গন ও নদী থেকে যে জাহাজ চলাচল করে তাহার গতি ও ঢেউয়ের তীব্রতায় নদীর মূল ভেরি ক্ষতিগ্রস্ত ফলে মহাতপুর গ্রামের মূল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেরি বা বাঁধটির বড় অংশ নদী গর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানি এখন সরাসরি কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে প্রবেশ করছে। ফলে কৃষকরা তাদের কৃষি জমি হারানোর পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানোর হুমকিতে রয়েছেন।
গ্রামবাসীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগী এলাকা বাসীরা বলেন, “আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সুতরাং রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমরা অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি না। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় আমাদের কৃষি পণ্যের ন্যায্য দাম পাই না, বইতে হচ্ছে ঋণের বোঝা। নদীর ভেড়ি বাধের ব্যাবস্থা কোন কোন ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের ফসলে জমিতে সরাসরি নদীর পানি অতিরিক্ত প্রবেশ করায় ফসল ডুবে যাচ্ছে তার সাথে নদীতে থাকা কচুরিপানা জমিতে ঢুকে যাচ্ছে যার ফলে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা আমাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে গ্রামটি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”
জরুরি দাবি:
মহাতপুর গ্রামবাসীর জানমাল ও কৃষি জমি রক্ষায় তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB)কাছে নিম্নলিখিত দাবি জানিয়েছেন:
১. জরুরী ভিত্তিতে টিম গঠন করে সরজমিন পরিদর্শন করা।
২. জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন স্থানে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. বিলীন হয়ে যাওয়া রাস্তা ও বাঁধ দ্রুত মেরামত করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা।
৪. স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল বা ব্লক স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামটিকে রক্ষা করা।
​নদী ভাঙ্গনের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ একান্ত কাম্য। অন্যথায়, গাবখান নদীর গ্রাসে মহাতপুর গ্রামের কৃষকের কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হবে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।