ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে চাপে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি এখন নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে বাংলাদেশের।

প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করেছে ৪২৬ রান। ফলে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিংয়ে চাপে রয়েছে স্বাগতিকরা।

তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিনের অপরাজিত মাহমুদ ১৪ রানে ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। তিনি শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। তাইজুল ইসলাম করেন ১৭ রান। তাসকিন আহমেদ অপরাজিত থাকেন ১৪ রানে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন জশ হ্যাজলউড। ৮৯ রান খরচায় তিনি নেন ৬ উইকেট। মিচেল স্টার্ক ৭৯ রানে ২টি এবং নাথান লায়ন ও অন্য এক বোলার নেন একটি করে উইকেট। বাংলাদেশকে থামাতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স মোট আটজন বোলার ব্যবহার করেও খুব বেশি সফল হননি।

২২৮ রানের ঘাটতি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও হয় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে। ট্রাভিস হেড ১৭ এবং জ্যাক ওয়েদারাল্ড কোনো রান না করেই আউট হন। দুজনকেই ফেরান প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। এরপর মার্নাস লাবুশেনও ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি।

৭৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। স্মিথ ৪৪ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বিদায় নেন। তবে গ্রিন ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে আছেন অ্যালেক্স ক্যারি, অপরাজিত ১৯ রানে।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৬১ রান। এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। হাতে রয়েছে ৭ উইকেট। শেষ দিনে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দিতে পারলে ডারউইনে লেখা হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক ইতিহাস।