দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত তিন দশক ধরে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। ওই নির্বাচনও সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার।
গত ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ড. অলি আহমদের পক্ষে দুটি এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র ছিল। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে সবগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থী নির্বাচনে থাকছেন। ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় অভিজ্ঞতার কিছু ঘাটতি থাকলেও কমিশন প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
সিইসি জানান, ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই গণনা শুরু হবে এবং ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন তিনি। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে। ভোটদান ও গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
এবারের ভোট হবে ওপেন ব্যালটে। ব্যালটপত্রে প্রার্থী ও ভোটারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে ভোটদান প্রক্রিয়া উপস্থিতদের কাছে উন্মুক্ত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটারদের ভোটদান এবং ভোট গণনার অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না বলেও জানিয়েছেন সিইসি। পাশাপাশি নির্বাচন ঘিরে অতিরিক্ত বা বড় ধরনের ব্যয়ের যে আলোচনা চলছে, তা গুজব বলে দাবি করেছেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন। সিইসি আশা প্রকাশ করেছেন, সবার সহযোগিতায় একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে কমিশন।