ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী’ অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানকে চুক্তিতে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনেক সুযোগ ও ছাড় দেওয়া হলেও তেহরান তা গ্রহণ করেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে এমন একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করা হবে, যার ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নজিরবিহীনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কোনো দেশ যদি তাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশকেও ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
ইরানের তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ইরানের কোনো বন্ধু বা মিত্র দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, যেসব দেশের প্রতি তিনি ইঙ্গিত করেছেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।
ইরানের বড় ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এসব দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, সামনে একটি ‘সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ আসছে। ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে সব মিত্র ও অংশীদারকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হয়। পরে ৫ মে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুটি মাঝারি মাত্রার যুদ্ধবিরতিও হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড