​সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার আন্দোলন ও সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক ভিডিও (কনটেন্ট) তৈরির জের ধরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহনূর আলমের ওপর এক বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন আহত ভুক্তভোগী।
​আহত শাহনূর আলম জানান, শুক্রবার রাতে তিনি মোটরসাইকেলযোগে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে গাছের আড়ালে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে চলন্ত মোটরসাইকেলসহ তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
​পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার চেষ্টা চালানো হয় এবং রড দিয়ে কোমর ও হাঁটুতে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।
​হামলা শেষে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী পিছন থেকে এক হামলাকারীর গেঞ্জি চেপে ধরেন এবং তাঁকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। চিহ্নিত ওই হামলাকারী এলাকাভিত্তিক চিহ্নিত মাদক কারবারি শাহরিয়ার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
​সাংবাদিক শাহনূর আলম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে আসছি। এর জেরে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে ভিডিও তৈরি বন্ধ করার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তাঁদের হুমকিতে নতিস্বীকার না করায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে।”
​বর্তমানে আহত অবস্থায় তিনি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
​বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ উল্লাহ ভূঁইয়া কিরণ জানান, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।