নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম।
রোববার (২৩ আগস্ট) পৃথক দুটি প্রতিবাদলিপিতে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এর আগে নোবিপ্রবিতে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আবারও দলীয় ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যক্তিদের ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনেরই যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা ছিল না। শুধুমাত্র দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণে তাদের এসব পদে বসানো হয়েছে।”
তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম পৃথক বিবৃতি দেয়।
নোবিপ্রবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, নোবিপ্রবিতে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
এতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের প্রতিবাদলিপিতেও একই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বক্তব্য প্রদান করা উচিত। দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ফোরামও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।