পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত ২১ আগস্ট রাতে উপজেলার বেতমোর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আইয়ুব হাওলাদার (৩৫)। তিনি তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী বাজার এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে এবং বেতমোর বাজারের একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। এদিকে ঘটনার পরদিন সকালে পুলিশ অভিযুক্ত আইয়ুবকে আটক করলেও পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিক না পাওয়ার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেয়। শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশু ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ওই শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে রাস্তায় অবস্থান করছিল। পরিবারের শাস্তির ভয়ে বাড়িতে না ফিরে সে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সুযোগে আইয়ুব হাওলাদার শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকে এনে বেতমোর বাজারে নিজ ফার্নিচার দোকানের পিছনের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক নির্যাতন চালান। শিশুটির আত্মচিৎকারে একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিয়ে দোকানের শাটার খুলে দেয়।
পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইয়ুব হাওলাদারকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইয়ুব শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর “ভুক্তভোগী শিশুকে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি” এমন কারণ দেখিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়। শিশু যৌন নির্যাতনের মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা বা আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, আইয়ুব হাওলাদারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর ইতিহাস রয়েছে। ইতিপূর্বেও একই ধরনের দুটি ঘটনায় স্থানীয় শালিসে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা প্রদান করতে হয়েছিল। তবে সেসব ঘটনায় পূর্বে কোনো মামলা হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা মঠবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়া এবং তাদের তাৎক্ষণিক খুঁজে না পাওয়ার কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”