ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের এমফিল গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মিজানুর রহমান লালনকে বিভাগের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে এ দাবিতে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্করের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেয় সংগঠনটি।
মিজানুর রহমান লালন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত এমফিল গবেষক। তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর-০১। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘Income Inequality and Its Impact on Economic Growth in Bangladesh’।
লিখিত আবেদনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তারা জানতে পেরেছে, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান লালন বর্তমানে অর্থনীতি বিভাগে এমফিল গবেষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বিভাগের একটি সেমিনারে তাঁর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির শিক্ষার অধিকার বা গবেষণার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পক্ষে তারা নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন উল্লেখ করে লালনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় তাঁর ক্যাম্পাসে উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বা উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এতে বিভাগের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মিজানুর রহমান লালনের অর্থনীতি বিভাগের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ও বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (২৩ আগস্ট) পিএইচডিতে স্থানান্তরের লক্ষ্যে অনুষ্ঠেয় সেমিনারে নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত আবেদন করেন মিজানুর রহমান লালন। এসময় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে সেমিনারে বাধা, হয়রানি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান তিনি।
আকিব হাসান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়