নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সাবেরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৬) একাধিকবার ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম কিশোরী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
​এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা (01920615550)বাদী হয়ে গত ২৫আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১২ টায় কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
​মামলার বিবরণ ও ঘটনার পটভূমি
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আসামিদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করত। গত ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে দুপুর অনুমান ১:৩০টায় বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে ১ নম্বর আসামি বকুল মিয়া (৫৫) কিশোরীর পায়ের ক্ষতের চিকিৎসার কথা বলে সাউদপাড়াস্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস রোডের একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করা হয়।
​পরবর্তীতে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ ও ৪ নম্বর আসামির সহায়তায় নিজ বসতঘরে নিয়ে কিশোরীর মুখে স্প্রে মেরে অজ্ঞান করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। সর্বশেষ গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখেও তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের পর জোর করে ট্যাবলেট খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়।
​মামলার আসামিসমূহ-১. মোঃ বকুল মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত নায়েব আলী (প্রধান আসামি) ২-মোঃ আবু (৫০), পিতা- মৃত ছনু মিয়া (গ্রেপ্তারকৃত)৩- মোছাঃ লিমা (২১), পিতা- মোঃ বকুল মিয়া ৪.-মোছাঃ জাহানারা বেগম (৪৮), স্বামী- মোঃ বকুল মিয়া (সর্ব সাং- সাউদপাড়া)৫-মোছাঃ স্মৃতি (৩২), স্বামী- জনি (সাং- টেঙ্গুরী, থানা- কেন্দুয়া)
এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।এ ব্যাপারে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সজল দাস (01320104342)জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে সাউদপাড়ার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।ইতিমধ্যে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের প্রয়োজনীয় ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, এবং বর্তমানে ভিকটিম অভিভাবকের হেফাজতে রয়েছে।
​তিনি আরও জানান, ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামিসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুতই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।