‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আনন্দ র্যালি, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের অবদান তুলে ধরেন।
র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর ব্রহ্মপুত্র নদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) কর্মকর্তাবৃন্দ সহ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পোনা অবমুক্তকরণ শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য নিজেদের পর্যাপ্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও প্রস্তুত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মৎস্যজাত পণ্যের সতেজতা বহুবিধ সূচকের ওপর নির্ভর করে, যা বিশেষজ্ঞদের জন্য অনুধাবন করা সহজ। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আমাদের এমন একটি সহজ ও একক নির্দেশক (ফ্যাক্টর) উদ্ভাবনের দিকে নজর দেওয়া উচিত, যা দেখে বিষদ জ্ঞান ছাড়াই যেকোনো মানুষ এক পলকেই মাছের সতেজতার নিখুঁত মাত্রা সহজে বুঝে নিতে পারে।”
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর আমীনুল হক ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশের রূপালী ইলিশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআরআই-এর গবেষক ও পরিকল্পনা শাখার পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম এবং মৎস্য অধিদপ্তর ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইলিশ মাছের অতীতের প্রাপ্যতা এবং বর্তমানে এর পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. জোয়ার্দ্দার ফারুক আহমেদ এবং অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ।
অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক বলেন, “ইলিশ ও স্যামন প্রজাতির মাছের টিকিয়ে রাখার লড়াই প্রকৃতির এক অপূর্ব রহস্য। হাজারো প্রতিকূলতা ও হিংস্র শিকারিদের হাত থেকে বেঁচে হাজার মাইল পথ পেরিয়ে কেবল ডিম ছাড়ার জন্য তারা নিজ জন্মস্থানে ফিরে আসে। এই প্রাকৃতিক জীবনচক্রকে সচল রাখতে কৃত্রিম ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণার চেয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে তাদের বিচরণের পথ সুগম করতে পারলেই ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।”
প্রধান অতিথি ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি ইলিশ উৎপাদন হ্রাস পেতে শুরু করায় পূর্বের ব্যবস্থাপনা নীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনঃপর্যালোচনার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। গবেষকদের কাছে কোনো জাদুর কাঠি নেই যা এটিকে প্রতিহত করতে পারবে। মূল সমস্যাটি হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা পাড়ের শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে ১ নম্বর অভয়াশ্রমে প্রচুর মাছ মেরে ফেলছে। এই দূষণের কারণ ও সমাধান জানা সত্ত্বেও তা মেনে না চলাই বিপর্যয় ডেকে আনছে। এজন্য সব পর্যায়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”