গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিদ্যালয়ের দুই সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষিকা। অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষক নব কুমার বিশ্বাস। একই অনুষ্ঠানে মক্কা-মদিনা ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে গজল পরিবেশন করেছেন শিক্ষিকা নিদ্রা মল্লিক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ক্বিরাত, গজল ও বিভিন্ন কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম, আদর্শ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক নব কুমার বিশ্বাস মহানবী (সা.)-এর জন্ম, শৈশব ও মানবতার কল্যাণে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করে পরবর্তীতে বিশ্বমানবতার জন্য সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ মানুষকে ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও শান্তির পথে চলার শিক্ষা দেয়।

নব কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন শিক্ষকের কণ্ঠে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও মানবিক আদর্শের এমন আন্তরিক উপস্থাপনাকে উপস্থিত অনেকেই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন।

এরপর অনুষ্ঠানে পবিত্র মক্কা-মদিনা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে হৃদয়ছোঁয়া গজল পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষিকা নিদ্রা মল্লিক। তাঁর কণ্ঠে গজল পরিবেশনের সময় অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিরা তাঁর পরিবেশনা মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করেন এবং প্রশংসা করেন।

বর্ণি উচ্চ বিদ্যালয়ের এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। একই অনুষ্ঠানে ভিন্ন ধর্মের দুই শিক্ষকের এমন আন্তরিক অংশগ্রহণ সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মহানবী (সা.)-এর মানবতা, শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির শিক্ষা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও জোরদার করবে। বিদ্যালয়ের এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।