খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় চলতি আউশ মৌসুমে চাষ করা ব্রি ধান-৯৮ জাতের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এ ধানের ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার ওয়াছু ব্লকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ নমুনা শস্য কর্তন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০ বর্গমিটার জমি থেকে কর্তন করা ধান ভেজা অবস্থায় ১৩ দশমিক ২ কেজি পাওয়া যায়। এ সময় ধানের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর্দ্রতা সমন্বয় করে হিসাব করলে প্রতি হেক্টর জমিতে শুকনো ধানের ফলন দাঁড়ায় প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা এ ফলনকে সন্তোষজনক ও প্রত্যাশিত বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আউশ মৌসুমে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মোট ৪৫০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হেক্টরে হাইব্রিড, ৩০০ হেক্টরে উচ্চফলনশীল (উফশী) এবং ১৩০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রুবাইয়াত তানিম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম রানা, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইউনুছ নূর, মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা, ওয়াছু ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজেদা বেগমসহ স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, উন্নত জাতের ধান ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ফলে আউশ মৌসুমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের ধানের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামীতে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।