র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় ১ জন আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত আটটার দিকে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার মামলা নং-২৪, তারিখ- ১৬/০৮/২০২৬ খ্রি., ধারা- ৩০২/১০৯/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে দোয়ারাবাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি- জিয়াউর রহমান (৩২), মৃত চান মিয়ার ছেলে।
তিনি দোয়ারা বাজার উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের বাসিন্দা।
ভিকটিম মোহাম্মদ আলী (৮৫) সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা।
৫নং বিবাদী ইসমাইল মিয়া ভিকটিমের ছেলে এবং ১নং বিবাদী হোছনা বেগম তার পুত্রবধূ।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়,
৫নং বিবাদী সৌদি আরবে প্রবাসী থাকায় ১নং বিবাদী তার সন্তানদের নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ভিকটিমের নামীয় জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে ও পুত্রবধূ বিভিন্নভাবে ভিকটিমের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। এতে ভিকটিম রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একপর্যায়ে তারা ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে হত্যা করার জন্য ১নং বিবাদী ২নং বিবাদী রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করে। উক্ত চুক্তি মোতাবেক গত ১৪/০৮/২০২৬ তারিখ আনুমানিক রাত প্রায় বারোটায় ২নং বিবাদী ৩নং বিবাদী নজরুল ইসলাম এবং ৪নং বিবাদী জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে যায়। পরবর্তীতে তারা ১নং বিবাদীর সহযোগিতায় ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে এবং তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের নাতনি বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৮/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখ উক্ত মামলার এজাহারনামীয় ৩ জন আসামিকে র্যাব-৯ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম শহীদুল ইসলাম জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উক্ত মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।