ডার্ক ওয়েবের আড়ালে রমরমা মাদক বাণিজ্য
মাদক ব্যবসার চেনা ছক বদলে যাচ্ছে দ্রুত। অন্ধকার গলি বা নির্জন রাস্তার মোড় নয়- এখন স্মার্টফোনের স্ক্রিন কিংবা কম্পিউটারের মনিটরই হয়ে উঠছে মাদকের নতুন বাজার। ইন্টারনেটের অদৃশ্য জগৎ ‘ডার্ক ওয়েব’ ব্যবহার করে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথসহ নানা ধরনের মাদক কেনাবেচা চলছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই বাণিজ্যে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসে, আর মূল্য পরিশোধ হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক জাহেদ হোসেন মোল্লা বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক বেচাকেনার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিট কয়েকটি চালান জব্দ করেছে। অনলাইনে মাদক বাণিজ্য ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইউনিটগুলো কাজ করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রো দক্ষিণ অঞ্চলের উপ-পরিচালক মানজারুল ইসলাম জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। ছোট চালানের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেন হলেও বড় চালানে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে পাইকার ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা পদ্ধতি বদলিয়েছে। ইয়াবা, আইস, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রিতে তারা ডার্ক ওয়েবের বিভিন্ন সাইট ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করছে। বিশেষ ব্রাউজারের মাধ্যমে ‘হাইড্রা’ বা ‘সিল্ক রোড’-ধরনের গোপন মার্কেটপ্লেসে এসব মাদক বিক্রি হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু গোপন গ্রুপও ব্যবহৃত হচ্ছে।
এসব অনলাইন মার্কেটপ্লেসে মাদকের ক্যাটালগ সাজানো থাকে। সেখান থেকে ক্রেতারা পছন্দের মাদক অর্ডার দেন। পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহার করা হয় এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে পাঠানো হয় পার্সেল। কুরিয়ার অফিসে পৌঁছানোর পর অনেক সময় নির্দিষ্ট স্থান থেকে তা সংগ্রহ করেন প্রাপক, যাতে অবস্থান গোপন থাকে।
খুচরা চালানের টাকা সাধারণত মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পরিশোধ করা হয়। বড় চালানের ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হয়। মাদক চক্রের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে ‘ডিজিটাল হুন্ডি’ পদ্ধতিতে তা বিটকয়েন বা মোনেরোর মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুর রহমান বলেন, অনলাইনে মাদক বেচাকেনা ঠেকাতে সিএমপির সাইবার ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।























