জয়পুরহাটে পালী-আদিবাসী শ্মশানে মৃতদেহ সমাধী দিতে বাধা, অতর্কিত হামলায় আহত ৩
জয়পুরহাটে আদিবাসী কিশোরের মরদেহ সৎকার ও সমাধিতে বাধা, সৎকারের আসা স্বজনদের ওপর ওতর্কিত হামলার শিকার ৩ জন।
জয়পুরহাট জেলা সদর পালী আদিবাসী সমাধী শ্মশানে মৃতদেহ সমাধি দিতে গেলে আদিবাসীদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ আদিবাসী সংঘ ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতাসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চকমোহন গ্রামের আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা পিন্টু পাহানের ১৪ বছর বয়সী ছেলে বিকাশ পাহানের মরদেহ সমাধি দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিকাশ পাহান গত ৩০ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে। পরদিন তার মরদেহ পালী আদিবাসী সমাধী শ্মশানে নিয়ে সমাধি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এ সময় নূরপুর গ্রামের মুকুল চন্দ্র মণ্ডল (পিতা-মৃত অর্জুন মণ্ডল) এর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে মরদেহ সমাধিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে মরদেহ সমাধি দিতে আসা আদিবাসীদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এতে বাংলাদেশ আদিবাসী সংঘ জয়পুরহাট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদ জয়পুরহাট জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সতিশ পাহান, পালী আদিবাসী সমাধী শ্মশানের সভাপতি অনুকূল কুর্মি এবং সাধারণ সম্পাদক শংকর গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভাদসা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে বিকাশ পাহানের মরদেহ সমাধি দেওয়া সম্পন্ন হয়।
ঘটনার পর আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

















