1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. m3214sdaa@needforspeeds.online : alejandro3192 :
  3. mjhnmbv@needforspeeds.online : alexandramatos :
  4. fdvcd4343vvsdrt23@n8ncreator.ru : alycemack871088 :
  5. pashaigroman324@dyrochka.website : andersonpalazzi :
  6. asddgfsdewr2wrwer87wesa@tomorrow5.fun : andersonthrelkel :
  7. rebyatakotyata@dyrochka.website : angelikamaxfield :
  8. givememoney@needforspeeds.online : angiespooner7 :
  9. vkusnofs@needforspeeds.online : antoniaeastman2 :
  10. roberttaylor1755ywts@gsasearchengineranker.com : anyapraed2271 :
  11. zadaniesuety@dyrochka.website : audrycampion30 :
  12. mogyshiya@needforspeeds.online : beahaviland79 :
  13. info233@noreply0.com : boydehmann0971 :
  14. fgdfvbvdfsdfr3e4@n8ncreator.ru : carltonhilder5 :
  15. sereganeakter@needforspeeds.online : carmelonorman1 :
  16. asddgfsdewr232wrwerwesa@tomorrow5.fun : christamatthew :
  17. shishkirog@dyrochka.website : christencumpston :
  18. asddgfsde54wr2wrwerwesa@tomorrow5.fun : deanachittenden :
  19. thomaswilson2694l2du@welcometotijuana.com : devonquigley892 :
  20. olegkurapatov343@dyrochka.website : dixiekaylock :
  21. noledy@dyrochka.website : estellehanger :
  22. info230@noreply0.com : frankbyron68064 :
  23. asddgfsdewr278wrwerwesa@tomorrow5.fun : frederickacruse :
  24. fengzhang88955jj4n@seoautomationpro.com : gailfrancisco25 :
  25. davidwilson2900s4d@verifiedlinklist.com : gordonhand83 :
  26. jennifermartinez5223xvyc@gsasearchengineranker.com : gustavostamper :
  27. msdfxcv@needforspeeds.online : hannelorevigano :
  28. anthonydavis2330ycpr@gsasearchengineranker.com : hesterlangford :
  29. asddgfsdewr2wrwefdgrwesa@tomorrow5.fun : janessad72 :
  30. bolshayadurrka@dyrochka.website : janette8230 :
  31. richardhernandez3925iexx@travel-e-store.com : jaredwaldrop9 :
  32. mogyshfdgniya@needforspeeds.online : jasminpesina :
  33. mogyshiyabar@needforspeeds.online : jeanettekleiber :
  34. mayaal-ahmad102474wyf@seoautomationpro.com : judsonannunziata :
  35. jenniferbrown3524n04w@verifiedlinklist.com : keeshatiffany95 :
  36. realnodoing@needforspeeds.online : kennyzeigler678 :
  37. asddgfsdewr2wdfsdrwerwesa@tomorrow5.fun : lashawndaingle3 :
  38. info231@noreply0.com : loriballentine :
  39. info232@noreply0.com : lorijip35172 :
  40. afkgaming0ews@needforspeeds.online : maesparling76 :
  41. nadelallinks@dyrochka.website : mathias60a :
  42. asddgfsdewr2wrwerwegfh45sa@tomorrow5.fun : melbacaple :
  43. fdgdfwer454523423dswqdwqr@n8ncreator.ru : patriciaqmc :
  44. sarahmoore9649yrnp@welcometotijuana.com : randellrawlins :
  45. josephhernandez7903zgvy@travel-e-store.com : raymonfassbinder :
  46. paryod@dyrochka.website : reinaldobroun :
  47. dikiycoyot51@dyrochka.website : rhys50a6766 :
  48. asddgfsdewr762wrwerwesa@tomorrow5.fun : rosettadoughty1 :
  49. asddgfsdewr2wrwe2edfrfrwesa@tomorrow5.fun : saraghu625526580 :
  50. asddgfsdewr2wrwer867wesa@tomorrow5.fun : shawneemactier :
  51. ysloviyabananov@dyrochka.website : stuartaguilar44 :
  52. dmitrov1v@dyrochka.website : trenacastellano :
  53. asddgfsdewr2wrwerwesdfsdfsdfsa@tomorrow5.fun : troyranclaud56 :
  54. durovanton3423@dyrochka.website : ulyssesfree :
  55. barbarahernandez3773z8ik@gsasearchengineranker.com : veijere2358 :
  56. barbaraanderson7116r3sd@travel-e-store.com : vernelltzh :
  57. asddgfsdewr2wrwerweretsa@tomorrow5.fun : veronaholden654 :
  58. miyaboikasd@dyrochka.website : vjdlacy363 :
  59. dsfdsf34@needforspeeds.online : willmacias389 :
ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কােটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ এর অপকর্ম
৫ আগস্ট শেষ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল হলেও এখনও রয়ে গেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ব্যাকগ্রাউন্ডের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সারাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি পাহাড়সম।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, পরবর্তীতে সিনিয়র সচিব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় এর তদবিরে হোসাইন আহমদকে স্থানীয় সরকার বিভাগে চাকুরী দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রীকেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চাকুরি দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগে উপজেলা ১ শাখা এবং উপজেলা-১ শাখায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকাকালে ফাইল অনুমোদনের পূর্বে অথবা ফাইল অনুমোদন বাতীত উপসচিবের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বিদেশ সফরের সরকারি আদেশ জারী করেন হোসাইন আহমদ।
‘এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার দুইমারা উপজেলার জমি অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন হোসাইন আহমদ। ১০ লক্ষ টাকা ঘুষের জন্য হোসাইন আহমদ গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট উপস্থিত হয়। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকারকে অবহিত করেন। অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকার প্রশাসন অধিশাখাকে বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা-১ শাখা হতে বদলি করা হয়।
আওয়ামী ব্যাকগ্রাউন্ডের হোসাইন আহমদের সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নিলে জানা যায়, তার নামে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিল্ডিংয়ে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। আমিন বাজারের মধুমতি মডেল টাউনের কাছে তার ১০ কাঠার | একটি জমি রয়েছে। এছাড়া তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর বাহেরচর, ২নং ওয়ার্ডে (হোল্ডিং নং-৬১০/১) এ ১৭ শতকের একটি জমি, ৭ শতক জায়গায় একটি বাড়ী রয়েছে হোসাইন আহমেদের।
সরকারি কোন অনুমোদন ব্যতীত হোসাইন আহমদ আজিমপুরে চাকুরি দেয়ার জন্য শতদল নামে কোসিং কাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার স্ত্রী ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সরকার কর্মকমিশনে চাকুরি করার ফলে পিএসসির একটি সিন্ডকেটের মাধ্যমে প্রশ্ন আউট করে টাকার বিনিময়ে লোকজনকে চাকুরি দিয়েছে। অথচ একজন সরকারি মচারীর পক্ষে কোসিং ব্যবসা করা শৃঙ্খলার পরিপন্থী ।

সরকারি কোন অনুমোদন ব্যতীত হোসাইন আহমদ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ব্যবসার সাথে জড়িত। যাত্রাবাড়ি ও আমিন বাজারের মধুমতি মডেল টাউনের তার ডেভলাপার ব্যবসা রয়েছে। অথচ একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ব্যবসা করা শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ বিষয়ে ইতোপূর্বে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
পরবর্তীতে সচিব, মুহম্মদ ইবরাহিম সময়ে এ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব হোসাইন আহমদকে প্রশাসন-২ শাখায় পদায়িত হয়। প্রশাসন-২ শাখা হতে ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হোসাইন আহমদ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ প্রশাসন-২ শাখায় কর্মরত থাকায় নামে বেনামে লাইসেন্স করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সমস্ত কেনাকাটা করেন।
২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগুন লাগার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ হয়ে যায়।
স্হানীয় সরকার বিভাগে আগুল লাগার পর অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি কোন মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি মর্মে রিপোর্ট প্রদান করেন। অথচ বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। যার কোন অস্তিত্ব নেই।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ কম্পিউটার প্রোগ্রামার এর মতামত ব্যতিত বিনা টেন্ডারে কম্পিউটার আনুষঙ্গিক (কোড নং- ৪১১২২০২) খাত হতে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা কেনা কাটা করেছেন। অথচ একটি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগে কয়েকটি শাখায় এলজিএসপি প্রকল্প হতে কিছু সংখ্যক কম্পিউটার এনে সরবরাহ করা হয়েছে। বিল বাউচার এর মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্নসাৎ করেছে। এ বিষয়ে কি পরিমাণ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে এবং কোন কোন শাখায় সরবরাহ করা হয়েছে তা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সকল তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখার নামে যে কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে, উক্ত কম্পিউটার দেখলে বুঝা যাবে তা এলজিএসপি হতে দেয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কোন কম্পিউটার ক্রয় করা হয়নি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জানুয়ারি মাসে বিনা টেন্ডারে আসবাবপত্র বাবদ ২ কোটি ০১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার চেয়ার-টেবিল, ছোফা ও আলমারীসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রয় করেছে মর্মে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাস্তবে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল, ছোফা ও আলমারী ক্রয় করেছে। এছাড়া জুন মাসে আসবাবপত্র বাবদ ৩১ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যার কোনটি ক্রয় করা হয়নি। দেখানো/বলা হয়েছে আগুন লাগার পূর্বে ক্রয় করা হয়েছে। মাগুন লাগার পর সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। ৩১ লক্ষ টাকার পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কম্পিউটার মেরামত ও কম্পিটারের টোনার ক্রয় বাবদ ৭৮ লক্ষ ৪১ হাজার
টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ১৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, অফিস সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবদ ৬৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারি বাবদ ১ কোটি ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই বাবদ ৩৩ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা এবং আপ্যায়ন বাবদ ৭৪ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার বিল পরিশোধসহ বর্ণিত খাতে সর্বমোট ছয় কোটি নব্বই লক্ষ বিরাশি হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যার ৮০% টাকা হোসাইন আহমদ নিজে আত্মসাৎ করেছে। ওমর এন্টারপ্রাইজসহ তার পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির নামে প্যাড ব্যবহার করে সমস্ত মালামাল সরবরাহ করেছে।
২০২৫ সালে ঈদ-উল- ফিরতের পর ঈদ পূর্ণমিলনী নামে ৩৫০ জনের খাবার সরবরাহ করেছে মর্মে একটি বিল দাখিল করা হয়েছে। অথচ ঈদ-উল- ফিরতের পর কোন ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান হয়নি। এছাড়া প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি সভার আপ্যায়ন দপ্তর/সংস্হা হতে সরবরাহ করে। অথচ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি সভার প্রতিটি খাবার বাবদ ৫০০ টাকা বিল করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিশোধিত আপ্যায়ন বিল গুলো দেখলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করার কথা থাকলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করা হয়নি। হোসাইন আহমদ টেন্ডার ছাড়া নিজে মালামাল সরবরাহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিল উত্তোলন করেছে। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে ইজিপি- এর মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করার টেন্ডার আহবান করা হয়। আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য এ টু জেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রণ ও বাধাই এর জন্য ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ ইজিপি- এর মাধ্যমে স্হানীয় সরকার বিভাগে আসবাবপত্র সরবরাহ করার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়। অথচ চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ টু জেড এন্টারপ্রাইজ এবং ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। দেখা গেছে আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ওমর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানীর প্যাড ব্যবহার করে হোসাইন আহমদ ১১ লক্ষ টাকার অধিক বিল দাখিল করেছেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ তিনটা আলমারির রং করার জন্য ১৮০০০ টাকা করে ৫২০০০ টাকা প্রশাসন-০২ শাখা হতে বিল করে, যে টাকা দিয়ে নতুন তিনটি আলমারি কেনা যায়। চোখে পড়ে না মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, এভাবে আর কত প্রশাসনের টাকা লুট?
স্হানীয় সরকার বিভাগের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদের তিনটা আলমারির রং করা বাবদ ১৭৪০০ টাকা করে ৫২২০০ টাকা রুপপুরের বালিশ কেলেঙ্কারিকেও হার মানিয়েছে।
প্রশাসন-০২ শাখা হতে বিল করে, যে টাকা দিয়ে নতুন তিনটি আলমারি কেনা যায়। চোখে পড়ে না মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, এভাবে আর কতো প্রশাসনের টাকা লুট?
দূর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কােটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ এর অপকর্ম
৫ আগস্ট শেষ হাসিনা সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার রদবদল হলেও এখনও রয়ে গেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ব্যাকগ্রাউন্ডের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সারাদেশের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দুর্নীতির অন্যতম সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি পাহাড়সম।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব, পরবর্তীতে সিনিয়র সচিব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রণালয় এর তদবিরে হোসাইন আহমদকে স্থানীয় সরকার বিভাগে চাকুরী দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার স্ত্রীকেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চাকুরি দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগে উপজেলা ১ শাখা এবং উপজেলা-১ শাখায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকাকালে ফাইল অনুমোদনের পূর্বে অথবা ফাইল অনুমোদন বাতীত উপসচিবের স্বাক্ষর স্ক্যান করে বিদেশ সফরের সরকারি আদেশ জারী করেন হোসাইন আহমদ।
‘এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার দুইমারা উপজেলার জমি অধিগ্রহণের টাকা বরাদ্দের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেন হোসাইন আহমদ। ১০ লক্ষ টাকা ঘুষের জন্য হোসাইন আহমদ গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট উপস্থিত হয়। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকারকে অবহিত করেন। অতিরিক্ত সচিব অমিতাভ সরকার প্রশাসন অধিশাখাকে বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা-১ শাখা হতে বদলি করা হয়।
আওয়ামী ব্যাকগ্রাউন্ডের হোসাইন আহমদের সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নিলে জানা যায়, তার নামে যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি বিল্ডিংয়ে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। আমিন বাজারের মধুমতি মডেল টাউনের কাছে তার ১০ কাঠার | একটি জমি রয়েছে। এছাড়া তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর বাহেরচর, ২নং ওয়ার্ডে (হোল্ডিং নং-৬১০/১) এ ১৭ শতকের একটি জমি, ৭ শতক জায়গায় একটি বাড়ী রয়েছে হোসাইন আহমেদের।
সরকারি কোন অনুমোদন ব্যতীত হোসাইন আহমদ আজিমপুরে চাকুরি দেয়ার জন্য শতদল নামে কোসিং কাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার স্ত্রী ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সরকার কর্মকমিশনে চাকুরি করার ফলে পিএসসির একটি সিন্ডকেটের মাধ্যমে প্রশ্ন আউট করে টাকার বিনিময়ে লোকজনকে চাকুরি দিয়েছে। অথচ একজন সরকারি মচারীর পক্ষে কোসিং ব্যবসা করা শৃঙ্খলার পরিপন্থী ।

সরকারি কোন অনুমোদন ব্যতীত হোসাইন আহমদ রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ব্যবসার সাথে জড়িত। যাত্রাবাড়ি ও আমিন বাজারের মধুমতি মডেল টাউনের তার ডেভলাপার ব্যবসা রয়েছে। অথচ একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ব্যবসা করা শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ বিষয়ে ইতোপূর্বে কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
পরবর্তীতে সচিব, মুহম্মদ ইবরাহিম সময়ে এ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনাব হোসাইন আহমদকে প্রশাসন-২ শাখায় পদায়িত হয়। প্রশাসন-২ শাখা হতে ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য হোসাইন আহমদ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ প্রশাসন-২ শাখায় কর্মরত থাকায় নামে বেনামে লাইসেন্স করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সমস্ত কেনাকাটা করেন।
২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগুন লাগার পর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ হয়ে যায়।
স্হানীয় সরকার বিভাগে আগুল লাগার পর অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মহোদয়ের সভাপতিত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি কোন মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি মর্মে রিপোর্ট প্রদান করেন। অথচ বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। যার কোন অস্তিত্ব নেই।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমদ কম্পিউটার প্রোগ্রামার এর মতামত ব্যতিত বিনা টেন্ডারে কম্পিউটার আনুষঙ্গিক (কোড নং- ৪১১২২০২) খাত হতে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা কেনা কাটা করেছেন। অথচ একটি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগে কয়েকটি শাখায় এলজিএসপি প্রকল্প হতে কিছু সংখ্যক কম্পিউটার এনে সরবরাহ করা হয়েছে। বিল বাউচার এর মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্নসাৎ করেছে। এ বিষয়ে কি পরিমাণ মালামাল ক্রয় করা হয়েছে এবং কোন কোন শাখায় সরবরাহ করা হয়েছে তা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে সকল তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখার নামে যে কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে, উক্ত কম্পিউটার দেখলে বুঝা যাবে তা এলজিএসপি হতে দেয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কোন কম্পিউটার ক্রয় করা হয়নি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জানুয়ারি মাসে বিনা টেন্ডারে আসবাবপত্র বাবদ ২ কোটি ০১ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার চেয়ার-টেবিল, ছোফা ও আলমারীসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ক্রয় করেছে মর্মে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। বাস্তবে কয়েকটি চেয়ার-টেবিল, ছোফা ও আলমারী ক্রয় করেছে। এছাড়া জুন মাসে আসবাবপত্র বাবদ ৩১ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যার কোনটি ক্রয় করা হয়নি। দেখানো/বলা হয়েছে আগুন লাগার পূর্বে ক্রয় করা হয়েছে। মাগুন লাগার পর সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। ৩১ লক্ষ টাকার পুরো টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কম্পিউটার মেরামত ও কম্পিটারের টোনার ক্রয় বাবদ ৭৮ লক্ষ ৪১ হাজার
টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ১৯ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, অফিস সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবদ ৬৫ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারি বাবদ ১ কোটি ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই বাবদ ৩৩ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা এবং আপ্যায়ন বাবদ ৭৪ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার বিল পরিশোধসহ বর্ণিত খাতে সর্বমোট ছয় কোটি নব্বই লক্ষ বিরাশি হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। যার ৮০% টাকা হোসাইন আহমদ নিজে আত্মসাৎ করেছে। ওমর এন্টারপ্রাইজসহ তার পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির নামে প্যাড ব্যবহার করে সমস্ত মালামাল সরবরাহ করেছে।
২০২৫ সালে ঈদ-উল- ফিরতের পর ঈদ পূর্ণমিলনী নামে ৩৫০ জনের খাবার সরবরাহ করেছে মর্মে একটি বিল দাখিল করা হয়েছে। অথচ ঈদ-উল- ফিরতের পর কোন ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান হয়নি। এছাড়া প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি সভার আপ্যায়ন দপ্তর/সংস্হা হতে সরবরাহ করে। অথচ প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি সভার প্রতিটি খাবার বাবদ ৫০০ টাকা বিল করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরিশোধিত আপ্যায়ন বিল গুলো দেখলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করার কথা থাকলেও টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করা হয়নি। হোসাইন আহমদ টেন্ডার ছাড়া নিজে মালামাল সরবরাহ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বিল উত্তোলন করেছে। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে ইজিপি- এর মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করার টেন্ডার আহবান করা হয়। আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য এ টু জেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এবং মুদ্রণ ও বাধাই এর জন্য ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ ইজিপি- এর মাধ্যমে স্হানীয় সরকার বিভাগে আসবাবপত্র সরবরাহ করার জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়। অথচ চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ টু জেড এন্টারপ্রাইজ এবং ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ নামে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়নি। দেখা গেছে আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ওমর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কোম্পানীর প্যাড ব্যবহার করে হোসাইন আহমদ ১১ লক্ষ টাকার অধিক বিল দাখিল করেছেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ তিনটা আলমারির রং করার জন্য ১৮০০০ টাকা করে ৫২০০০ টাকা প্রশাসন-০২ শাখা হতে বিল করে, যে টাকা দিয়ে নতুন তিনটি আলমারি কেনা যায়। চোখে পড়ে না মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, এভাবে আর কত প্রশাসনের টাকা লুট?
স্হানীয় সরকার বিভাগের দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদের তিনটা আলমারির রং করা বাবদ ১৭৪০০ টাকা করে ৫২২০০ টাকা রুপপুরের বালিশ কেলেঙ্কারিকেও হার মানিয়েছে।
প্রশাসন-০২ শাখা হতে বিল করে, যে টাকা দিয়ে নতুন তিনটি আলমারি কেনা যায়। চোখে পড়ে না মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, এভাবে আর কতো প্রশাসনের টাকা লুট?
দূর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।