1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম ডিম থেকে ফুটল প্রথম মুরগির ছানা, ফিরছে ১২ ফুটের বিলুপ্ত পাখি

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪৫

বিজ্ঞানীদের এক অভাবনীয় সাফল্যে কৃত্রিম ডিম থেকে এই প্রথম একটি মুরগির ছানা জন্ম নিয়েছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ১২ ফুট উচ্চতার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রকাণ্ড জায়ান্ট মোয়া পাখিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস মঙ্গলবার (১৯ মে) ঘোষণা করেছে, তারা একটি বিশেষ ক্যাপসুলের ভেতরে সফলভাবে মুরগির ছানা ফোটাতে সক্ষম হয়েছে। এই কৃত্রিম ক্যাপসুল একটি ভ্রূণের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সরবরাহ করতে পারে।

ডিমের ওপরের অংশে একটি বিশেষ স্বচ্ছ জানালা রাখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণটির বৃদ্ধি এবং ডিম ফুটে ছানাটি বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের পশুপালন ব্যবস্থাপক পেজ ম্যাকনিকল বলেন, “কৃত্রিম ডিম থেকে বের হওয়া ছানাটিকে যখন আমি প্রথম হাতে নিলাম, তখন মনে হয়েছিল, ‘এটি সত্যিই অসাধারণ’। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি, এমন এক সৃষ্টির মুহূর্তে আমি সেখানে উপস্থিত থাকতে পেরেছি।”

ম্যাকনিকল বলেন, ‘এ এক দারুণ অনুভূতি। মনে হবে, মানুষের সব আবেগ যেন একসঙ্গে কাজ করছে। আপনার খুশিতে লাফাতে ও চিৎকার করতে ইচ্ছা করবে। আবার একই সঙ্গে ছানাটিকে অতি সাবধানে পরম মমতায় আগলে রাখতেও মন চাইবে।’

মোয়া পাখি ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি

মূলত নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ড জায়ান্ট মোয়া পাখিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। পলিনেশিয়া থেকে মাওরি উপজাতির আগমনের পর আনুমানিক ১৩৮০ থেকে ১৪৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই প্রকাণ্ড পাখিটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ধারণা করা হয়, একটি মোয়া পাখির ডিম সাধারণ মুরগির ডিমের চেয়ে আয়তনে প্রায় ৮০ গুণ এবং ইমু পাখির ডিমের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বড় ছিল। এর অর্থ, বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কোনো বড় পাখি নেই, যাকে এই মোয়া পাখির ডিম ফোটানোর জন্য ‘বিকল্প মা’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

তবে বিজ্ঞানীদের তৈরি এই কৃত্রিম ডিমের প্রযুক্তিকে আকারে আরও বড় করা সম্ভব, যা একটি বিশালাকার মোয়া পাখির ছানার আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বেন ল্যাম বলেন, ‘সাউথ আইল্যান্ড জায়ান্ট মোয়ার মতো বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা মানে কেবল তাদের প্রাচীন জিনোম পুনর্গঠন বা আদি কোষের পরিবর্তন করা নয়।

‘যেহেতু এদের জন্য কোনো বিকল্প মা (সারোগেট) নেই, তাই আমাদের সম্পূর্ণ নতুন ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করতে হয়েছে। কলোসালে আমরা কেবল ডিমের নকল তৈরি করিনি; বরং এটিকে গোড়া থেকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করেছি, যা সহজে নিয়ন্ত্রণ ও বড় করা সম্ভব। এটি বিজ্ঞান জগতের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম ডিম থেকে ফুটল প্রথম মুরগির ছানা, ফিরছে ১২ ফুটের বিলুপ্ত পাখি

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৪৫

বিজ্ঞানীদের এক অভাবনীয় সাফল্যে কৃত্রিম ডিম থেকে এই প্রথম একটি মুরগির ছানা জন্ম নিয়েছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে ১২ ফুট উচ্চতার বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রকাণ্ড জায়ান্ট মোয়া পাখিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পথ সুগম হতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম বিলুপ্ত প্রজাতি ফিরিয়ে আনার প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস মঙ্গলবার (১৯ মে) ঘোষণা করেছে, তারা একটি বিশেষ ক্যাপসুলের ভেতরে সফলভাবে মুরগির ছানা ফোটাতে সক্ষম হয়েছে। এই কৃত্রিম ক্যাপসুল একটি ভ্রূণের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সরবরাহ করতে পারে।

ডিমের ওপরের অংশে একটি বিশেষ স্বচ্ছ জানালা রাখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণটির বৃদ্ধি এবং ডিম ফুটে ছানাটি বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের পশুপালন ব্যবস্থাপক পেজ ম্যাকনিকল বলেন, “কৃত্রিম ডিম থেকে বের হওয়া ছানাটিকে যখন আমি প্রথম হাতে নিলাম, তখন মনে হয়েছিল, ‘এটি সত্যিই অসাধারণ’। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি, এমন এক সৃষ্টির মুহূর্তে আমি সেখানে উপস্থিত থাকতে পেরেছি।”

ম্যাকনিকল বলেন, ‘এ এক দারুণ অনুভূতি। মনে হবে, মানুষের সব আবেগ যেন একসঙ্গে কাজ করছে। আপনার খুশিতে লাফাতে ও চিৎকার করতে ইচ্ছা করবে। আবার একই সঙ্গে ছানাটিকে অতি সাবধানে পরম মমতায় আগলে রাখতেও মন চাইবে।’

মোয়া পাখি ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি

মূলত নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ড জায়ান্ট মোয়া পাখিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। পলিনেশিয়া থেকে মাওরি উপজাতির আগমনের পর আনুমানিক ১৩৮০ থেকে ১৪৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই প্রকাণ্ড পাখিটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ধারণা করা হয়, একটি মোয়া পাখির ডিম সাধারণ মুরগির ডিমের চেয়ে আয়তনে প্রায় ৮০ গুণ এবং ইমু পাখির ডিমের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বড় ছিল। এর অর্থ, বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কোনো বড় পাখি নেই, যাকে এই মোয়া পাখির ডিম ফোটানোর জন্য ‘বিকল্প মা’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

তবে বিজ্ঞানীদের তৈরি এই কৃত্রিম ডিমের প্রযুক্তিকে আকারে আরও বড় করা সম্ভব, যা একটি বিশালাকার মোয়া পাখির ছানার আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বেন ল্যাম বলেন, ‘সাউথ আইল্যান্ড জায়ান্ট মোয়ার মতো বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা মানে কেবল তাদের প্রাচীন জিনোম পুনর্গঠন বা আদি কোষের পরিবর্তন করা নয়।

‘যেহেতু এদের জন্য কোনো বিকল্প মা (সারোগেট) নেই, তাই আমাদের সম্পূর্ণ নতুন ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা করতে হয়েছে। কলোসালে আমরা কেবল ডিমের নকল তৈরি করিনি; বরং এটিকে গোড়া থেকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিজাইন করেছি, যা সহজে নিয়ন্ত্রণ ও বড় করা সম্ভব। এটি বিজ্ঞান জগতের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।’