1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈশ্বরগঞ্জে ভাঙা সড়ক–রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, টিআর–কাবিটার দাবিও উপেক্ষিত; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর–শ্রীফলতলা হয়ে রায়বাজারগামী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও এর ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কালভার্টের সংযোগস্থলে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি ও আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের এক পাশের সংযোগস্থলের মাটি ধসে রাস্তার বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি গ্রামের সড়ক নয়; বিষ্ণুপুর, শ্রীফলতলা, রায়বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক। বিকল্প পথ থাকলেও তা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিটি বর্ষায় ভাঙন আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পরই কি কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সড়ক ও কালভার্টের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো সংস্কার করা হলে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, তেমনি সম্ভাব্য প্রাণহানিও এড়ানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

ঈশ্বরগঞ্জে ভাঙা সড়ক–রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিন সংস্কার নেই, টিআর–কাবিটার দাবিও উপেক্ষিত; ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের চলাচল।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর–শ্রীফলতলা হয়ে রায়বাজারগামী গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক ও এর ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কালভার্টের সংযোগস্থলে বড় ধরনের ধস সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার দাবি ও আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্টের এক পাশের সংযোগস্থলের মাটি ধসে রাস্তার বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন ও পথচারীরা প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু একটি গ্রামের সড়ক নয়; বিষ্ণুপুর, শ্রীফলতলা, রায়বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক। বিকল্প পথ থাকলেও তা দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রতিটি বর্ষায় ভাঙন আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পরই কি কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? তারা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সড়ক ও কালভার্টের জরুরি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো সংস্কার করা হলে যেমন জনদুর্ভোগ কমবে, তেমনি সম্ভাব্য প্রাণহানিও এড়ানো সম্ভব হবে।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।